অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলো ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু টুম্পা!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ ,১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ৫:২০ অপরাহ্ণ ,১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : মরণব্যাধী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে হেরে গেলো ১০বছরের শিশু টুম্পা। গত ১৪ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম সরকার পাড়ার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিকেলে চিকিৎসকদের নির্দেশে ঢাকার আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপরই পরিবারের সদস্যদের মনে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছিল। টুম্পার কি হবে?

শিশু টুম্পার উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১০ই সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির,পিপিএম টুম্পার বাবার কাছে নগদ ৩০হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তিনি আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর আরো টাকা জোগাড় করে দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার আগেই টুম্পা চলে গেল না ফেরার দেশে।

এদিকে অকালে আদরের মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে টুম্পার দরিদ্র পিতা নারায়ন বিশ্বাস ও তার পরিবার। ঢাকায় অবস্থানরত পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির,পিপিএম টুম্পার মৃত্যুর সংবাদ শুনে গভীর শোক প্রকাশ করাসহ শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়াও রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও  দৈনিক মাতৃকন্ঠের সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন, রাজবাড়ী রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ ইউসুফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাবুর রহমান, রাজবাড়ী নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম এর বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি মোঃ আশিকুর রহমান শিশু টুম্পার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, “ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু টুম্পাকে বাঁচাতে আপনিও এগিয়ে আসুন” শিরোনামে রাজবাড়ী জেলার বহুল প্রচারিত “দৈনিক মাতৃকন্ঠ পত্রিকায়” ও পত্রিকার ফেসবুক পেইজে এবং জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “রাজবাড়ী নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম” এ সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদটি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির,পিপিএম-এর দৃষ্টি গোচর হলে তিনি শিশু টুম্পা বিশ্বাসের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন।

শিশু টুম্পা গোয়ালন্দ আনন্দ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো। পড়ালেখা ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে ভালই সময় কাটছিল তার। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে টুম্পার শরীরে জ্বর আসাসহ নানা সমস্যা অনুভব করে। পরিবারের লোকজন তাকে গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেকসে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক টুম্পাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ফরিদপুরের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে গত ১১ই আগস্ট টুম্পাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে টুম্পার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়লে চিৎিসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৭শে আগস্ট টুম্পাকে আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিকেলে চিকিৎসকদের নির্দেশে টুম্পাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

টুম্পার বাবা নারায়ন বিশ্বাস গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ডে ফুটপাতে বসে চপ-পিয়াঁজু ও পাপর বিক্রি করে সংসার চালান। তারপরও তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করেন।

 


এই নিউজটি 528 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments