,

যৌতুক মেটাতে না পারায় দুই যুগের সংসার ভাঙ্গতে বসেছে গৃহবধূ নুরুন্নাহার বেগমের!

News

স্টাফ রিপোর্টার : স্বামীর যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের সংসার ভাঙ্গতে বসেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রাজধরপুর গ্রামের গৃহবধূ নুরুন্নাহার বেগমের (৪০)। যৌতুকের দাবীতে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে দরিদ্র ভাইয়ের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে। শেষ পর্যন্ত যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে যৌতুকলোভী স্বামী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন নুরুন্নাহার।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, গত ২২ বছর আগে বালিয়াকান্দি উপজেলার রাজধরপুর গ্রামের সাহা মোল্লার ছেলে মোঃ রমজান মোল্লার সাথে একই গ্রামের মফিজউদ্দিন মোল্লার মেয়ে মোছাঃ নুরুন্নাহার বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা হাসি-খুশিভাবে সংসার করতে থাকে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে ৪টি সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে তারা ২টি মেয়ে বিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘর-সংসার করাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই রমজান তাস-জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং স্ত্রী নুরুন্নাহারকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। নুরুন্নাহার সন্তানদের সুখের কথা ভেবে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও রমজানের সাথে সংসার করতে থাকে। সম্প্রতি রমজান গোয়ালন্দ উপজেলার কামালদিয়া গ্রামের একটি মেয়েকে বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ের পর রমজান নুরুন্নহারের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। গত ২বছর আগে নুরুন্নহারের বাবা মারা যাওয়ায় রমজান নুরুন্নাহারের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে যৌতুকের টাকা এনে দিতে বলে। যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে গত ১মাস আগে রমজান নুরুন্নহারকে নির্যাতন করে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। বাবা মারা যাওয়ায় নিরুপায় নুরুন্নাহার তার দরিদ্র ভাই মোঃ মিরাজ মোল্লার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর নুরুন্নাহার তার ভাইয়ের বাড়ীতে আসার জন্য রমজানকে খবর দিলে রমজান ও তার দুই ভাই মনোয়ার মোল্লা এবং কোরবান মোল্লা নুরুন্নাহারের ভাইয়ের বাড়ীতে আসে। এ সময় তার ভাই মিরাজ মোল্লা রমজানকে নুরুন্নাহারকে নিয়ে ঘর-সংসার করার কথা বললে রমজান ও তার উল্লেখিত দুই ভাই নুরুন্নাহারের ভাইয়ের কাছে যৌতুক বাবদ ১লক্ষ টাকা দাবী করে। নুরুন্নাহারের ভাই মিরাজ যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে রমজান ও তার দুই ভাই নুরুন্নাহারকে বেধরক মারধর শুরু করে। এ সময় আশেপাশের লোকেজন এগিয়ে এসে তাদের হাত থেকে নুরুন্নাহারকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় রমজান ও তার ভাইয়েরা যাবার সময় বলে যায় ১লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দিলে নুরুন্নাহারকে ঘরে তুলে নিবে।

এ ঘটনায় অসহায় গৃহবধূ নুরুন্নাহার নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় গত ১৪ই সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(গ)৩০ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর