দৌলতদিয়া পতিতালয় থেকে দুই তরুণী উদ্ধার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ ,৩ অক্টোবর, ২০১৫ | আপডেট: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ ,৩ অক্টোবর, ২০১৫
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পতিতালয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ। এ পৃথক ঘটনায় জড়িত থাকায় সুমি আক্তার (৩০) নামের এক বাড়ীওয়ালী ও শাহ্ আলম ওরফে জান্নাত ওরফে জুনায়েদ (২২) নামের এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমি পতিতালয়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহীনের কথিত স্ত্রী ও শাহ্ আলম মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের লালু হোসেনে ছেলে। সে সাভার থানার হেমায়েতপুর ঋষিপাড়া এলাকার জনৈক মনির খানের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্বামী পরিত্যাক্তা তরুণী (১৮) প্রায় দুই মাস আগে পরিবারের উপর অভিমান করে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় আসার পর বিমানবন্দর রেলষ্টেশন এলাকার মোল্লা নামের এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। গত ১৩দিন আগে মোল্লা ওই তরুনীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে তাকে ভালো চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ফুঁসলিয়ে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে এনে সুমি বাড়ীওয়ালীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে সুমি বাড়ীওয়ালী ওই তরুণীকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসার কাজ চালিয়ে আসছিল। গত ২রা অক্টোবর রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি গোয়ালন্দঘাট থানায় ফোন করে ওই তরুণীর বিষয় পুলিশকে জানায়। পরে শনিবার পুলিশ পতিতালয়ে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার এবং সুমি বাড়ীওয়ালীকে গ্রেফতার করে।

এরআগে অপর অভিযানে গত ২রা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক গার্মেন্টস কর্মী (১৬) কে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টাকালে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর বাড়ী জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকশেম গ্রামে। সে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। গার্মেন্টেসে কাজ করাকালীন সময় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের লালু হোসেনে ছেলে লম্পট শাহ্ আলমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়। গত ২রা সেপ্টেম্বর বিকেলে লম্পট শাহ্ আলম ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে নিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় মাদার কাজী (৪৫) ও রুহুল খান (১৫) নামের দুই দালালের সহযোগীতায় শাহ্ আলম ওই তরুণীকে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা করলে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার ও শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করে। এসময় দালাল মাদার কাজী ও রুহুল খান কৌঁশলে পালিয়ে যায়।

উভয় ঘটনায় সুমি বাড়ীওয়ালী, শাহ্ আলম, মাদার কাজী ও রুহুল খানকে আসামী করে মানব পাচার আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

 

 


এই নিউজটি 825 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments