রাজবাড়ীতে পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তৎপর মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ ,১৪ অক্টোবর, ২০১৫ | আপডেট: ৯:২৮ অপরাহ্ণ ,১৪ অক্টোবর, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার শতাব্দী প্রাচীন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্যান্য বড় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের সকল পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে গত ১৩ই অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সংশোধনী অনুযায়ী কেবল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মেয়র, চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে সুনির্দিষ্ট দলের প্রতীক নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

এদিকে রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন খবরে রাজবাড়ীতে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা।

আওয়ামীলীগ ঃ রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র পদ প্রার্থী হিসাবে গত ৫ই অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক গণপরিষদ সদস্য এবং রাজবাড়ী পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের মেঝপুত্র ও আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলীর সহোদর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী ইরাদত আলী।

গত ৪ই অক্টোবর রাতে রাজবাড়ী সার্কিট হাউজে জেলা আওয়ামীলীগ, মহাজোট ও ১৪দলের নেতৃবৃন্দের অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মহাজোট তথা ১৪দলের নেতৃবৃন্দের ওই সভার আলোচনান্তে সবুজ সংকেত পেয়ে মেয়র পদপ্রার্থী হিসাবে কাজী ইরাদত আলী গত ৫ই অক্টোবর থেকে মাঠে নামেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ছাড়াও পৌর আওয়ামীলীগের নবাগত সভাপতি এডঃ মোঃ উজির আলী শেখ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিসহ ৯টি ওয়ার্ড কমিটি মেয়র প্রার্থী হিসাবে তাকে সমর্থন করেছে। প্রতিদিনই তাকে সমর্থন জানাচ্ছে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও সামাজিক সংগঠন। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনী মাঠে সরব অবস্থানে রয়েছেন।

অপরদিকে নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন রাজবাড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী। গত ১২ই সেপ্টেম্বর পৌরসভা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে বিদায়ী বক্তব্যে তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন দৃঢ়তার সাথে। তবে রাজনৈতিক ভিত্তিতে(দলীয় প্রতীকে) পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থীতার ব্যাপারে দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ ব্যাপারে গত ১২ই অক্টোবর সকালে রাজবাড়ী শহরের পৌর মিলেনিয়াম মার্কেটের দোতলায় নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পৌর মেয়র পদপ্রার্থী মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, এবারের পৌরসভা নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ও দলীয় প্রতীকে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই এবার ঠিক করবে কাকে মনোনয়ন দিবে। এরআগে প্রার্থী ঘোষণার কোন সুযোগ নাই। প্রার্থী মনোনয়ন দেবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আবার তৃণমূল পর্যায় থেকেও সুপারিশ করতে পারে। রাজবাড়ীতে এটা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। চুড়ান্ত হওয়ার আগে কাউকে বলা যাবে না আওয়ামীলীগ বা ১৪দলের মনোনয়ন প্রার্থী। এটা বলা অনৈতিক।

মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অশোক বাগচী ও সাবেক সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম নওয়াব আলী বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময় সভায় সাবেক পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, গত ২০০৪ সালের মে মাসে আমি রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১১ সালের জানুয়ারীতে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেই। এই দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর দায়িত্ব পালন কালে আমি কতটুকু সফল হয়েছি কতটুকু ব্যর্থ হয়েছি এই বিচারের ভার আমি রাজবাড়ী পৌরবাসীর উপর ছেড়ে দিলাম। এ সময় তিনি তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বর্ননা করেন।

এ ছাড়াও তিনি বলেন, পৌরবাসী সবাই জানেন বিগত নির্বাচনে আমি সামান্য কিছু ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হই। আমি কি কারণে পরাজিত হই রাজবাড়ী পৌরবাসী অবগত আছেন। আমি একজন বঙ্গবন্ধু সৈনিক হিসেবে যে কোন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে দলের সকলের পাশে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন একটি দলে মেয়র নির্বাচনে একধিক পদপ্রার্থী থাকতে পারে। গত ৪ঠা অক্টোবর সার্কিট হাউজে সেদিন আওয়ামীলীগ বা ১৪দলের কোন ফরমাল মিটিং ছিলনা। কিন্তু দলীয় কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই ইদানিং ফেসবুকে ও রাজবাড়ীর স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় পৌরসভা নির্বাচনে মহাজোট ও ১৪দলের মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এখানেই আমার আপত্তি। গত ২দিন আগে জেলা আওয়ামীলীগের মিটিং হয়েছে। সেখানে পৌর নির্বাচন নিয়ে আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। আমি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী সাথে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে কি বলেছেন সে বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন তিনি প্রধাননন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন সময়মত আপনার বিষয়টি জানতে পারবেন বলে জানান।

তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল যাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানান।

বিএনপি ঃ এদিকে জেলা বিএনপিতে পৌর মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ৪জনের নাম মাঠে রয়েছে। তারা হলেন ঃ বর্তমান মেয়র মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু ও বিএনপি নেতা গাজী আহসান হাবিব। আগামী সপ্তাহে বিএনপির প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে বলে জানাগেছে।

 

রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কম/ আশিক


এই নিউজটি 864 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]

More News from রাজনীতি