,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন রাজবাড়ীর ২ টি আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন খালেক-আসলাম-হারুন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার

রাজবাড়ী জেলায় বাল্য বিবাহ বন্ধে জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা ও কাজীসহ সংশ্লিষ্টদের শপথ

News

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাল্য বিবাহে জিরো টলারেন্সের লক্ষ্য নিয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলায় বাল্য বিবাহ বন্ধে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম জোরদারকরণ বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠানে জেলার জনপ্রতিনিধি (সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম এবং সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী বক্তব্য রাখেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহাবুবুল হক ও স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এন্ড সিইও ফারজানা ব্রাউনিয়া।

এ সময় জেলা প্রশাসকের সহধর্মিনী বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মিসেস আফরোজা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ ঈদতাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) ড. সৈয়দা নওশীন পর্নিনী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফ হোসেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারগণ, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, জেলার নিকাহ রেজিষ্টারগণ(কাজীগণ) সহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটে উপস্থাপনা করেন ঢাকা বিভাগের স্বর্ণ কিশোরী মোনামী মেহনাভ।

প্রধাণ অতিথি রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম বলেন, বাল্য বিবাহ যে আমাদের সমাজের জন্য ক্যান্সার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভালীর করা উক্তিটি আসলেই সত্য। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী, যে মেয়েটির বাল্য বিবাহ হচ্ছে সে নিজে। কারণ বিয়ের বয়স না হতেই বিবাহের করণে গর্ভবতী হয়ে অপুষ্টিতে ভোগা একটি বিকলঙ্গ শিশুর জন্ম দানের মাধমে তার জীবনকে অন্ধকার আচ্ছন্ন করে ফেলছে। এই বাল্য বিবাহকে প্রতিরোধ ও নিরুৎসাহিত করতে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক সভা, সমাবেশ, সেমিনার ও অন্য যেসব উপায়ে মা-বাবাসহ সকলকে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচেতন কার যায় তার মাধ্যমে সকলকে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজী সাহেবদের খুবই সচেতন থাকতে হবে। পাশপাশি আমাদের সমাজের সকল জনপ্রতিনিধিসহ সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বাল্য বিবাহের ফলে কি কি স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে সে বিষয়ে সচেতনামূলক সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে সমাজের সকলকে সচেতন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন সাটিফিকেট নিয়ে বাল্য বিবাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আইনজীবীদের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বয়স বাড়িয়ে বাল্য বিবাহেরমত ঘটনা সংগঠিত হয়। এই বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান ও আইনজীবী ভাইদের বয়স বাড়ানোর জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ও এফিডেভিট প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে আমাদের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তারা কোথাও বাল্য বিবাহ সংগঠিত হচ্ছে এমন খবর পেলে তাদের ধরে নিয়ে আসে। শুধু তাই নয় তাদের পিতা-মাতা যারা এই বাল্য বিবাহের জন্য দায়ী তাদের কেউ ধরে নিয়ে আসে। শুধু জেলা প্রশাসন বা পুলিশের বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা একার কাজ নয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, কাজী, ইমামসহ, রাজনীতিবিদগণ সমজের সকলে যার যার স্থান থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সচেষ্ট হই তবে আমরা রাজবাড়ী জেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত করতে পাড়বো। আর এক্ষেত্রে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল হবে।

সম্মানিত বিশেষ অতিথি বাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের অনেক কথা আছে যা বিশ্লেষন করে বা অন্য কোন ভাবে গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু সেই কথাই আবহ গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় জারিগান বা অন্য কোন গানের মাধ্যমে বোঝানো সম্ভব। আর সেই কারণেই আজকে এই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সংলাপে জারি গানের আয়োজনের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কারণে কি কি সমস্য হয় সে বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের দেশের যাদের বাল্য বিবাহের দিক বিবেচনা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভালো না, নয়তবা অশিক্ষিত সচেতনতার অভাব। এক্ষেত্রে কাজীগণসহ যারা বিয়ে রেজিস্ট্রির সাথে সম্পৃক্ত থাকেন তাদের অবশ্যই বিয়ে দেয়ার পূর্বে আঠরো বছরের নীচে বিয়ে হচ্ছে কি না সে বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই বাল্য বিবাহ দেয়ার আগে আমাদের সকলেই মনে রাখা প্রয়োজন যে, যার বাল্য বিবাহ হচ্ছে আমরা তাকে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এর জন্য আমাদের সকলকে বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র পরিবার গুলোকে সচেতন করতে হবে। যাতে তার বাল্য বিবাহের ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সরকারী যে আইন রয়েছে তার কঠোর প্রয়োগ ঘাটতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রায়ই অসৎ কাজীগণ টাকা নিয়ে বাল্য বিবাহ সংগঠিত করে। এক্ষেত্রেও কাজীদের লক্ষ্য রাখেতে হবে। আর অসৎ কাজীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আর আমরা সকলে মিলে যদি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সঠিক দায়িত্ব পালন করি তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে আরো এগিয়ে নিতে পাড়বেন। তাই আসুন আমরা সকলে দেশকে এগিয়ে নিতে কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের ফারজানা ব্রাউনিয়ার পাশাপাশি নিজেরাও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করি।

সম্মানিত আরেক বিশেষ অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য বাল্য বিবাহ একটি ক্যান্সর। কারণ ক্যান্সর যেমন শরীরে আক্রান্ত হলে সমস্থ শরীরে ছাড়িয়ে যায় তেমনি একটি মেয়ের বাল্য বিবাহের কারনে তার বিভিন্ন রকম রোগ, কর্মহীনতা ও সর্বশেষ একটি প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদানের মাধ্যমে সামাজিক ক্যান্সার দেশের উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করে। অথচ আমরা সকলে একটু সচেতন হলে এই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের মাধ্যমে সমাজ থেকে এই ক্যান্সার থেকে মুক্ত করতে পাড়ি। আমি এই বাল্য বিবাহ নিয়ে আমাদের গ্রাম অঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার সময় মেয়ের বাবা-মায়েরা আমাকে মেয়েদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরতেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে এই প্রতিবন্ধকতা গুলো অধিকাংশই দূর হয়েছে এবং মেয়েদের পাড়াশোনার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়ার কারণে বাল্য বিবাহ অনেক কমে গেছে। আর আমার সকলে মিলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি যদি কাজ করি তবে এই বাল্য বিবাহ জিরো টলারেন্সে অল্প সময়ের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংলাপ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির,পিপিএম বলেন, আমার সবাই মিলে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে যদি কাজ করি তবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই বাল্য বিবাহ সামজ থেকে দূর করা সম্ভব। আর এই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে আমাদের দেশে ১৯৩৫ সালের একটি আইন রয়েছে। যাতে উল্লেখ রয়েছে আঠারো বছরের নিচে কোন মেয়ে এবং একুশ বছরের নিচে কোন ছেলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে সেটি বাল্য বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। আবার আন্তর্জাতিক আইনেও আঠারো বছরের নীচে মেয়েদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। আমরা যেহেতু সব দিক দিয়েই উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধেও আমাদের দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশে বাল্য বিবাহ সংগঠিত হওয়ার প্রধান সমস্যা মেয়েদের শিক্ষার অভাব। আমার যেহেতু শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি তাই বাল্য বিবাহ অতি তাড়াতাড়ি কমে আসবে। রাজবাড়ী জেলার পুলিশ বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সবসময় প্রস্তুত বয়েছে বলে জানান।

সংলাপ অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এন্ড সিইও ফারজানা ব্রাউনিয়া বলেন, বাংলাদেশের সকল জেলার জেলা প্রশাসকদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকই প্রথম তার জেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেছে। আর এই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধসহ অন্যান্য যে সমস্থ বিষয়ে তিনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সে পদক্ষেপগুলো মন্ত্রী পরিষদ সচিব অন্যান্য জেলা প্রশাসক অনুসরণ করতে বলেছেন। যা রাজবাড়ী জেলার জন্য অত্যান্ত সম্মানের। তিনি রাজবাড়ী জেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করার জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও স্বর্ণ কিশোরী ফাউন্ডেশন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সকলের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ থেকে ২০১০ সালে মিলিনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল ও ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ান অব দ্যা আর্থ পুরস্কারসহ বিভিন্ন কাজের জন্য অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। আর এর প্রধান কারণ আমার সবদিক দিয়ে অগ্রগতি সাধন করেছি। কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি। সেটি হল বাল্য বিবাহ। বাল্য বিবাহ সংগঠিত হওয়ার দিক দিয়ে বর্তমানে আমাদের অবস্থান সারা বিশ্বের মধ্যে ৪র্থ। আমাদের জন্য যা খুবই একটি খারাপ ব্যাপার। সুতরাং আমাদের এই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের আরো এগিয়ে নিতে হবে। সেই কারণে আমার সকলে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করব। এরই ধারাবাহিকতায় আমার অনেক দিন আগেই রাজবাড়ী জেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেছি। আর জেলার কোথাও যাতে বাল্য বিবাহ না ঘটে সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধিগণ সকলে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে জেলার সব জায়গায়ই বিভিন্ন মতবিনিময় সভা, সচেতনামূলক সভা, শিক্ষাথীদের শপথ বাক্য পাঠ করানোসহ প্রায় সব অনুষ্ঠানেই বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে।

সংলাপ অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সকলে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে শপথ বাক্য পাঠ করেন। এরপর বক্তব্য পর্ব শেষে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে উপজেলা চেয়ারম্যাণগণ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, কাজী ও উপস্থিত সুধি সমাজের প্রতিনিধিগণের বাল্য বিবাহ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রদান করেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি, সম্মানিত বিশেষ অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

 রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর