দুর্গোৎসবে রাজবাড়ী জেলার সকল মন্ডবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ ,২০ অক্টোবর, ২০১৫ | আপডেট: ১২:২১ অপরাহ্ণ ,২০ অক্টোবর, ২০১৫
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেটের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, সহ-সভাপতি ও পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, কমিটির সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এডঃ এম.এ খালেক, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ আকতার হোসেন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।

এ সময় সিভিল সার্জন ডাঃ মাহাবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) ড. সৈয়দা নওশীন পর্নিনী, উপজেলা চেয়ারম্যানগণ, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র উপ-পরিচালক মোঃ জিল্লুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেরা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, সরকারী বিভিন্ন বিভাগের উপ-পরিচালকগণ, বিভিন্ন সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণসহ কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই বিগত সভার কার্যবিবরনী উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

সভায় কমিটির উপদেষ্টা রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, বর্তমানে জেলার আইন-শৃঙ্খলা বিগত মাসের তুলনায় ভালো। যেহেতু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে ও কিছুদিন পরেই মহরম সেহেতু এই সময়ে জেলায় একটু বাড়তি নিরাপত্তসহ সব দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর আকারণে যেন বিদ্যুৎ না যায় সে বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজবাড়ী পৌরসভার বর্তমান প্রায় সব রাস্তাঘাটের বেহাল দশাসহ রাস্তা অপরিস্কার দেখে অনুমান করা যায় পৌরসভা কোন কাজই ঠিকমত করছেনা। আবার শহরের ১নং রেলগেটে রেল লাইনের মধ্যে যে দোকান গুলো গড়ে উঠেছে সেগুলো খুবই বিপদজনক। এই কারণে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি রেল লাইনের মধ্যে থাকা দোকানগুলোকে অবশ্যই সরিয়ে দেওয়া জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। এছাড়াও তিনি রাজবাড়ী থেকে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস, বড়পুলের কিছু জায়গাসহ অনেক জায়গায় রাস্তা উচু করে মেরামতের করণে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই জন্য সড়ক বিভাগকে এ সমস্ত রাস্তা সমান করে মেরামত, বিদ্যুৎ বিভাগকে আসন্ন শীতের মধ্যে সকল লাইন মেরামত করার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া রেল স্টেশনে ট্রেন থামার ব্যাপরে আমি রেলমন্ত্রীর কাছ থেকে ডিও লেটার পাশ করিয়ে রেলে মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। যাতে পাচুরিয়া রেলস্টেশনে ট্রেন দাঁড়ায়। এছাড়াও জেলায় চুরি, ডাকাতি বন্ধসহ আইন শৃঙ্খলা ভালো হওয়ায় তিনি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির,পিপিএম বলেন, জেলায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যে কোন মাদক সংক্রান্ত ব্যাপারে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। জেলায় যে সমস্ত মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয় সেগুলো প্রথমে থানায় মালখানায় নথি করে রাখা হয়। এরপর চার্জশীট হওয়ার পর যখন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতিক্রমে কিছু আলামত রেখে বাকী উদ্ধৃত্ত মাদক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, রাজবাড়ী জেলায় বর্তমানে চলমান দুর্গাপূজায় সকল মন্ডবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি কোন পূজা মন্ডব থেকে কোন আতংক থাকে বা পূজা কমিটিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন কোন ধরণের অনাঙ্খিত ঘাটনা ঘটতে পারে সেক্ষেত্রে পুলিশের স্পেশাল টিমসহ মেটাল ডিটেকটর দিয়ে উক্ত মন্ডব পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক পূজা মন্ডবে আনসার বাহিনীর সদস্যরা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সার্বক্ষনিক নিরাত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও পুলিশের গোয়েন্দাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক মোবাইল টিম সর্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। আর পূজার সময় যাতে শহরের রেলগেটে যানজট না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ গত ঈদুল আযাহার মতই পূজা উৎসব সকলে নির্বিঘেœ পালন করতে পারবে বলে জানান। আর জেলার চুরি ও ডাকাতি সম্পর্কে তিনি বলেন যারা চুরি বা ডাকাতি করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের ধরে এনে জেলে পাঠালে সেখান থেকে বের হয়ে তার পুনরায় আবার সেই কাজটিই করে। এক্ষেত্রে যদি কোন চুরি বা ডাকাতির আসামী জেলা থেকে বের হওয়ার আগে জেল সুপার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করে তবে পুলিশ ঐ চোর বা ডাকাতের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে পারে সে কি করছে। এতে করে জেলা থেকে চুরি ও ডাকাতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় এবারের দুর্গোৎসব ও আশুরা সুন্দর ভাবে পালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগষ্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্ব মাসে জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সরকারের অন্যান্য এজেন্সী মাদকের উদ্ধারের ব্যাপারে অত্যান্ত তৎপর রয়েছে ও মাদকের ব্যাপারে তার জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে জেলায় মাদকের ব্যবহার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আগে বিষয়টি চালু থাকলেও ইদানিং লক্ষ্য করা গেছে অধিকাংশ মসজিদে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উপর ইমামগণ জুম্মার দিন এ ব্যাপারে বায়ন দেন না এজন্য তাদের পূর্বের ন্যায় জনগণকে সচেতনতামূলক বয়ান দেওয়া জন্য বলা হয়। জেলায় বর্তমানে কোন বিদ্যুতের ঘাটতি নাই। আসন্ন পূজায় যাতে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না করা হয় সে বিষয়ে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীকে নির্দেশ প্রদান করেন।

এছাড়াও তিনি পৌরসভার বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কে বলেন রাজবাড়ী পৌর মেয়র জেলার কোন গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকেন না। তিনি পৌর এলাকার কোন রাস্তা-ঘাট মেরামত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোন কাজ ঠিকমত করেনা। বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে তাকে বার বার বলা হলেও তিনি কোন কাজই ঠিকমত করেন না।

এছাড়াও জেলা প্রশাসক চলমান পূজা উৎসব যাতে অত্যান্ত সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয় এ জন্য জেলার সকল বিভাগকে সমন্বিত ভাবে কাজ করার আহবান জানান।

 


এই নিউজটি 477 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments