একটি নারীই একদিন একটি মা; অতঃপর আমরা…এহসান কলিন্স

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ ,৬ নভেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ১১:০০ অপরাহ্ণ ,৬ নভেম্বর, ২০১৫
পিকচার

একটি নারীই একদিন একটি মা; অতঃপর আমরা….এহসান কলিন্স

হটাৎ করে রিমঝিম বৃষ্টি শুরু হলো আমার কাজ শেষ হবার কিছুক্ষন আগে ; লন্ডন এ রোদ বৃষ্টি্র এক দারুন ঘনিষ্টতা ; আর এই ঘনিষ্টতার কথা জানি বলেই জানালার দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি ঝরে পরা দেখছিলাম আর ভাবছিলাম এই বুঝি থেমে যাবে |

ব্রিটিশদের দেয়া সা্রাদিনের আমদানী রপ্তানীর হিসাব শেষ করে বের হলাম সাপ্তাহিক খরচ এ পোষা ছোট্ট ঘরটার জন্য | বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর বাইরে কি এক দারুন শুভ্রতা ! ভাবলাম আজ অনেকক্ষন হাটবো; এমনিতেই মনটা কেন জানি খুব ভারি ভারি লাগছে ক’দিন ; কোন এক অচেনা কাছের মানুষ মনে হচ্ছে সব সময় আমায় তারিয়ে নিয়ে বেরায় ! চেরীফল খেতে খেতে হাটতে থাকি |

আমার মুল গল্পটা শুরু হল এখান থেকেই ! Celedenian রোড পেছনে ফেলে আমি হাটতে থাকি ; রাস্তা পার হবো বলে ট্রাফিক সংকেত দেখি ; আমার সা্থে রাস্তা পার হওয়ার সঙ্গি হয় আরও একজন মানুষ, সে হচ্ছেন একজন গরভোবতী নারী !একজন সম্ভাবনাময়ী মা, সেই নারীর শরীরের বরধিত অংশটি দেখে আমি সত্যিই আত্কে উঠি | ট্রাফিক সংকেত থেকে বাচঁতে গিয়ে তার হাতের ভারি জিনিসগুলো নিমেষেই ছড়িয়ে পড়লো রাস্তায় ; আমি একটি একটি করে রাস্তায় ছড়িয়ে পরা জিনিসগুলো তুলতে থাকি; সেই সাম্ভাবনাময়ী মা নিঃবাক হয়ে শুধু দেখতে থাকে | আমি তাকে ধরে রাস্তা পার করে দিলাম।

প্রশস্ত রাস্তার খোলা ফুতপাত বেঞ্চীতে তিনি বসেলন | আমাকে তারঁ ধন্য্ বাদ দেয়ার উপস্থাপনটা এমন ছিল যেন সে পারলে প্রতিটি সেকেন্ডে দিতে চায় | আমাকে সে হাত দিয়ে দেখালো এইটাই আমার ঘর |

আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তারঁ শরীরের যে বরধিত অংশটি মা হবার জন্য বেড়ে উঠেছে, সে কি আলতো ভাবে তারঁ হাতটি দিয়ে আদর করেছ ! অথচ সেই সম্ভাবনাময়ী মা এখন ও তারঁ সন্তানকেই দেখেনি, হাতের নিত্য দিনের খাবারের ব্যাগগুলো বহন করতে না পারলেও দশটি মাস সেই নারীটি একটি জীবন্ত মানুষ বহন করে নিয়ে বেরাচ্ছে| তাঁর শরীরের অন্য অংশগুলো নিরাপদ আছে কি নাই তারথেকে এই মা বেশী চিন্তিত তারঁ শরীরের বরধিত অংশটুকু নিরাপদ এ আছে কিনা |

একটি জীবন্ত শিশু কি নিরিববাদে ঘুমিয়ে আছে একজন নারীর শরীরের মধ্যে! একদিন কোন এক রোদ্র বৃষ্টি দিনে বা রাতে, বের হয়ে আসবে সেই মা থেকে একটি মানুষ; আর সেই মা পাওয়ার আনন্দে ভুলে যাবে তার সেই সমস্ত কষ্ট ! হয়তো কোন একদিন সেই শিশুটি বায়না ধরবে লাঠি লজেন্সের কিন্তু সেইদিন হয়তো সেই মায়ের কাছে ছিলই শুধু ঔষুধ কেনার টাকা !হয়তো সেই অবুঝ শিশুটি কি দিব্যি লাঠি লজেন্স খেয়ে ঘুমিয়ে থাকবে আর সেই নারীটি, সেই মমতাময়ী মা অসুখের যন্ত্রনায় সারারাত জেগে নীরবে কাদঁবে !

চলে এলাম Bromley by Bow এর ছোট্ট দিঘী পেড়িয়ে আমার সাপ্তাহিক খরচ এ পোষা ছোট্ট ঘরটায় ! কত যে ব্যস্ততা আমাদের ; ভোর হলে আবার বেরিয়ে পরা ব্রিটিশদের দেয়া সা্রাদিনের আমদানী রপ্তানীর হিসাব নিকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া বড় বড় থিসিছ রচনা করা, কিন্তু আজ এই নিঝুম রাতে আমার সব থেকে বড় কাজ ছিল এই শ্রদ্ধাময়ী নারীটিকে নিয়ে, আমার এবং আমাদের মা কে মনে করা !

আমরা সবাই একটি মেয়ের, একটি রমনীর, একটি নারী্র, শরীরের বরধিত অংশ বানিয়েছিলাম এবং তাকেঁ আমরা ইচ্ছামত লাথি দিয়েছিলাম, কষ্ট দিয়েছিলাম; আর সেই নারীটি আমাদের দেয়া কষ্টের বিনিময়ে দিয়েছে লক্ষ কোটি ভালবাসার চুম্বন ! কখনতো আমাদের কোন মা বলেই নি খোকা খুকি তোরা আমার শরীরে কত কষ্ট দিয়েছিলি ! কারন তিনি যে আমাদের মা, একজন নারী !

আমার এই সাদামাটা লেখাটি পৃথিবীর সমস্ত নারীদের সন্মানে উৎস্বগ করলাম কারন প্রতিটি নারীই একদিন একটি একটি করে মা হবে ! যেমনি করে আমার এবং আমাদের মা হয়েছে !

এহসান কলিন্স  |  লেখক, কথা সাহিত্যিক  | তরু মাধবী ,ঢাকা

 


এই নিউজটি 738 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments