‘সেনানিবাসকে ঘিরে চরাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন’

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ ,২০ ডিসেম্বর, ২০১৫ | আপডেট: ১০:৫২ অপরাহ্ণ ,২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
পিকচার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার অদূরে পদ্মা নদীর পাড়ে বৃহত্তর চরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ‘রাজবাড়ী সেনানিবাস’। ফলে পল্লীবিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, নতুন রাস্তা নির্মাণ, চলাচলের অযোগ্যে রাস্তার সংস্কার, ইন্টারনেটের ব্রডব্যান্ড সংযোগ লাইন নির্মাণ এবং টেলিফোন সংযোগ স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাল্টে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের অবহেলিত এ চরাঞ্চলের দৃশ্যপট।

সেনানিবাস এলাকার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মফিজ উদ্দিন (৪০) বলছিলেন, ‘আমরা বাঁইচ্যা থাকতে এইরহম উন্নয়ন দেইহ্যা যাইবার পারবো এমন কথা কোন দিন কল্পনাও করি নাই। সেনানিবাস না হইলে শত বছরেও আমাগো চরে এইরহম উন্নয়ন হইতো না। এহন থেইকা আমরা ভালো নাগরিক সুবিধা পাবো। এই উন্নয়নের পিছনে একমাত্র অবদান আমাগো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়।’

গত ১৭ই ডিসেম্বর সেনানিবাস এলাকার চরাঞ্চলে সরকারের এ উন্নয়মূলক কর্মকান্ডের দৃশ্য সরেজমিনে ঘুরে দেখতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। তখনই কথা হয় মফিজ উদ্দিনসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে।

সেনানিবাস এলাকার সাভারপাড়া গ্রামের আব্দুল গণি মিয়া জানান, চলতি শীত মৌসুমে সেনানিবাস এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ শীতকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পর্যবেক্ষনের জন্য আগামী ৭ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মোঃ আবদুল হামিদের ‘রাজবাড়ী সেনানিবাসে’ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এ আগমন উপলক্ষে সেনানিবাস এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যোগ হয়েছে বাড়তিমাত্রা।Presentation1

কালুখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে গত ১৭ই ডিসেম্বর থেকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর মোট ১১টি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প গুলোর মধ্যে রয়েছে- হারিণবাড়ীয়া থেকে চরখাপুড়া পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার নতুন রাস্তা এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন, সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রায় দুই কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ, হারিণবাড়ীয়া বাজার থেকে দুই কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ এবং রূপপুর মোড় থেকে হারিনবাড়ীয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ। আগামী ৩০শে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজগুলো শেষ করতে হবে।

রাজবাড়ী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে রাজবাড়ী সেনানিবাস এলাকায় ১১হাজার ভোল্টের ৯কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। হরিণবাড়ীয়া গ্রাম থেকে চরখাপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এবং হরিনবাড়ীয়া বাজার থেকে সাদারচর পর্যন্ত চার কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নয় কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে যেখানে কমপক্ষে তিন-চার মাস সময় লাগে। সেখানে ‘রাজবাড়ী সেনানিবাস’ এলাকায় রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ৮০জন দক্ষ জনবল এবং ১৫জন অফিসার ও সুপারভাইজার বিরামহীনভাবে কাজ করে মাত্র ১২দিনে সংযোগ চালু করতে সক্ষম হয়েছেন।

নতুন এ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ হওয়ার ফলে রাজবাড়ী সেনানিবাস এলাকাসহ চরাঞ্চলের চর রাজপুর, হরিণবাড়ীয়া, সাদারচর ও চরখাপুড়া এলাকার ৪শতাধিক পরিবার, ২০টি গভীর নলকূপ, ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি রাইস মিল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।Presentation1~1

অপরদিকে রাজবাড়ী টেলিফোন এক্সচেঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বহিঃ) মোঃ শাহরিয়ার খান জানান, রাজবাড়ী সেনানিবাসের জন্য খানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ই-১ সার্ভিস যুক্ত ২টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের লাইন টানা হয়েছে। এ ছাড়াও পাংশা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে রাজবাড়ী সেনানিবাসে ১০টি অস্থায়ী টেলিফোন সংযোগ প্রদানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান জানান, এসকল কার্যক্রম ছাড়াও চিকিৎসা ক্যাম্প করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা চরাঞ্চলের মানুষের এবং গবাদী পশুর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তারা ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করছেন।

তিনি বলেন, শীতকালীন মহড়া চলাকালীন সময়ে এবং এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য জনগণের যে পরিমান শস্যহানী হবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তার ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘রাজবাড়ী সেনানিবাসে’ সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পর্যবেক্ষনের জন্য রাষ্ট্রপতির আগমনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর এরিয়া কমান্ডার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস.এম মতিউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাসের নিজস্ব জায়গায় এবারের শীতকালীন মহড়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আসবেন এটা রাজবাড়ীবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।

উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর রাজবাড়ী সদর, কালুখালী ও পাংশা উপজেলার বৃহত্তর চরাঞ্চলে ‘রাজবাড়ী সেনানিবাস’ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্তকৃত সরকারী খাস জমির দলিল চলতি বছরের ১০ই জুন রাজবাড়ী কালেক্টরেট থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

আপডেট : রবিবার ডিসেম্বর ২০, ২০১৫/ ১১:৪৬ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 2582 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments