জীবিকা চলে ঘাস বিক্রিতে!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ ,১১ জানুয়ারি, ২০১৬ | আপডেট: ৭:১৩ অপরাহ্ণ ,১১ জানুয়ারি, ২০১৬
পিকচার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট : জঙ্গলে অনেকটা অপ্রোয়জনে বেড়ে ওঠে সবুজ ঘাস। হয়তো কখনো সখনো গবাদি পশুর ক্ষুধা নিবারণ করে থাকে। অনেকের কাছে ফেলনা মনে হলেও এটিই কারো কাছে হয়ে ওঠে রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন। শুধু গবাদি পশুর নয়, ঘাস এখন প্রাণ বাঁচাচ্ছে সাহেরা বেগমেরও।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের লক্ষীকোল পালপাড়া গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নারী সাহেরা বেগম। দারিদ্রতার কারণে একমাত্র ছেলের পক্ষেও নেয়া হয়না তার যত্ন। বৃদ্ধা বয়সে ভারী কাজ করতে না পারায় ঘাস বিক্রিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।

সাহেরা বেগম জানান, ৩০ বছর আগে জেলা সদরের আম বাড়ীয়ার চরের আজাদ প্রামাণিকের সাথে বিয়ে হয় তার । বিয়ের পর তাদের সুখের সংসারে জন্ম নেয় একটি ছেলে সন্তান। কিন্তু ছেলে হওয়ার কিছুদিন পরই তার স্বামী আজাদ প্রামাণিক নিখোঁজ হন। এরমাঝে সর্বনাশা পদ্মাও গ্রাস করে নেয় তার ভিটে-মাটি। তখন থেকেই শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে জীবন যুদ্ধে নামেন সাহেরা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে শিশু সন্তানকে নিয়ে কোনভাবে দিনযাপন করতে থাকেন তিনি। ছেলে একটু বড় হলে দারিদ্রতার কারণে তার হাতে বই-খাতা তুলে দিতে পারেন নি সাহেরা। বাধ্য হয়ে ছেলের হাতে রিক্সার হ্যান্ডেল ধরিয়ে দিতে হয় তাকে।

এরপর ছেলের রিক্সা চালানো ও তার বাসায় কাজ করা টাকা দিয়ে লক্ষীকোল পাল পাড়ায় এক টুকরো জমি কিনে ছেলেকে নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করে সাহেরা। সাহেরা বেগমের সেই ছেলে এখন বড় হয়েছে। বিয়ে করেছে। সন্তান হয়েছে। তাই জীবিকার টানে সে এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় রিক্সা চালায়। কিন্তু রিক্সা চালিয়ে সে যা আয় করে তা দিয়ে শুধু তার নিজের সংসারই চলে। বাড়িতে থাকা মা সাহেরার জন্য পাঠাতে পারেন না একটি টাকাও।
এদিকে বৃদ্ধা বয়সে সাহেরা বেগমও আগের মতো বাসা বাড়িতে ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়েই সাহেরা বেগম সকাল হলেই কাঁচি হাতে নিয়ে ঘাস কাটার জন্য বেরিয়ে পড়েন দূর্গাপুর চরে। সারাদিন ঘাস কেটে বিকেলে বিক্রি করে যা পান তাই দিয়ে কোনভাবে দিনযাপন করেন তিনি।

সাহেরা বেগমের স্বামী আজাদ প্রামাণিক আজ পর্যন্তও নিখোঁজ রয়েছেন। বেঁচে আছেন না মরে গেছেন সেটাও বলতে পারেন না সাহেরা।

কান্নাজড়িত কন্ঠে সাহেরা বেগম বলেন, ‘আমার সুয়ামি যদি নিখোঁজ না হইতো তাইলে আমার ছাওয়ালডার আইজ রিক্সা চালাইতে হইতো না। আমরা ওরে ল্যাহা-পড়া শিহাইতাম। আমারো আইজ ঘাস বিক্রি কইরা খাইতে হইতো না।’ ‘সুয়ামি নিখোঁজ হওয়ার পর থেইকাই আমার কপাল পুঁড়ছে। দিনের পর দিন না খাইয়া থাকছি, তাও সরকার থেইকা কোনো সাহায্য পাই নাই।’

একমাত্র ছেলে সাহেরার দেখভাল না করলেও ছেলের উপরে কোনো ক্ষোভ নেই তার। বরং ছেলের এ রিক্সাচালক হওয়া ও দরিদ্র জীবন যাপনের জন্য নিজেকেই দায়ী করেন সাহেরা।

সাহেরা বলেন, ‘ছাওয়াল আমার ভাত-কাপুর দিবার পারে না, এতে ওর কোনো দোষ নাই। ঢাহা শহরে রিক্সা চালাইয়া ও কয় টাহাই কামাই করে। যা কামাই করে তাতে ওরই সুংসার চলে না। নিজে কষ্ট কইরা ওরে যদি আমি ল্যাহা-পড়া শিহাইতে পারতাম তাইলে ও আইজ নিজেও শান্তিতে থাকপার পারতো আর আমারেও শান্তিতে রাখপার পারতো।’

জীবনের প্রায় পড়ন্ত বেলায় এসে অসহায় সাহেরা বেগমের এখন একটাই চাওয়া সেটা হচ্ছে সরকারী সহযোগিতা। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাহেরা বেগমের এই শেষ চাওয়াটা পূরণ হবে এটাই ‘রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম’ পরিবারের প্রত্যাশা।

আপডেট : সোমবার জানুয়ারী ১১, ২০১৬/ ০৬:৫৪ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 548 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]