যৌনতা না করলে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ ,১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ | আপডেট: ৬:১৫ অপরাহ্ণ ,১৭ জানুয়ারি, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা দালাল চক্র প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৌশলে মেয়েদেরকে ফুঁসলিয়ে পতিতাপল্লীতে এনে বিক্রি করে। এরপর তাদেরকে জোরপূর্বক যৌন পেশায় লিপ্ত করা হয় । কোন মেয়ে যৌনতা না করতে চাইলে তার উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।

এদের অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুকিশোরী হওয়ায় বর্তমান সেখানে শিশু যৌনকর্মীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কা জনক হরে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে যৌনপল্লীর অন্ধকার জীবনে ১২ দিন থাকার পর ২৩ বছর বয়সী এক গার্মেন্টস কর্মীকে উদ্ধার করে। এসময় ইতি (৩৫) নামের এক বাড়িওয়ালীকে গ্রেফতার করে। গত এক বছরে থানা পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা এ যৌনপল্লী থেকে শতাধিক মেয়েকে উদ্ধার করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাচারকারী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিশোরী ও গার্মেন্টস কর্মীদের ভালে বেতনে কাজ এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে বাসা থেকে বের হলে ওৎ পেতে থাকা নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছে তারা। এক্ষেত্রে তাদেরও ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদের অসহায়ত্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীকে ঘিরে শতাধিক পাচারকারী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অবস্থান করে এ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দেশের সর্ববৃহত দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে বর্তমান প্রায় আড়াই হাজার যৌনকর্মী রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতাধিক যৌনকর্মী অপ্রাপ্ত বয়সী শিশু-কিশোরী। যাদেরকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা এই পতিতাপল্লীতে বিভিন্ন বাড়িওয়ালীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করেছে।

পতিতাপল্লীর একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে প্রতিমাসে গড়ে অন্তত বিশ জন করে নতুন নতুন শিশুকিশোরীকে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে এনে যৌনপেশায় বাধ্য করা হচ্ছে। আইনের চোখকে ধুলো দিয়ে শিশু-কিশোরীদের যৌনপেশায় লিপ্ত করে পল্লীর অধিকাংশ বাড়িওয়ালী মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়াদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তাদের মত অনেক মেয়ে আছে যাদের ভাল কাজ দেওয়ার কথা বলে এখানে এনে বিক্রি করছে নারী পাচারকারীরা। তাদের কেনার পর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে জোর করে যৌনপেশায় লিপ্ত করা হয়। এরপর খদ্দেরকে খুশি করতে না পারলে শুরু হয় অন্য বাড়িওয়ালীদের কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া। কারও পছন্দ হলে দর-দামের মাধ্যমে তার কাছে বিক্রি করা হয়। তখন আবার সেই বাড়িওয়ালীর কথা মত চলতে হয়। এভাবে একটি মেয়ে একাধিক বার এখানে বিক্রি হয়ে থাকে। আর পালানোর পথ বন্ধ করতে সাথে রাখা হয় একজন পাহারাদার। এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে পতিতাবৃত্তি করছে কয়েকশ কিশোরী-তরুণী বলে জানা যায়। যৌনপল্লীতে থাকা এসব মেয়েদের কাছে আসা খরিদ্দারের মোবাইল ফোন থেকে সুযোগ বুঝে পরিবারের কাছে ফোন করে জানানোর পর আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অল্প সংখ্যক কিশোরী-তরুনী উদ্ধার হয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, ‘গত এক বছরে পুলিশ যৌনপল্লী থেকে ৩৮টি মেয়ে উদ্ধার করেছে। এ সব ঘটনায় অন্তত অর্ধ শত মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বাড়িওয়ালা-বাড়িওয়ালী ও দালালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে নারী ও শিশু পাচারকারি চক্রের সকল সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

তিনি আরো জানান, রাজবাড়ী পুলিশের অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ দৌলতদিয়া যৌনপল্লী। এ কারণে সেখানকার সকল অপরাধমূলক কাজ নিয়ন্ত্রণ ও জেরপূর্বক যৌনপেশায় লিপ্ত করা বন্ধে পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।

(সূত্র- গোয়ালন্দ নিউজ)

 


এই নিউজটি 1148 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments