দৌলতদিয়া পতিতালয় থেকে দুই কিশোরী উদ্ধার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ ,২৫ জানুয়ারি, ২০১৬ | আপডেট: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ ,২৫ জানুয়ারি, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পতিতালয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানোর অভিযোগে লাল বানু (৪৫) ও মঞ্জুয়ারা (৩৫) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ রোববার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ও শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে পতিতালয়ে অভিযান চালায়।

আটক লাল বানু স্থানীয় মৃত আতালত হকের স্ত্রী। আর মঞ্জুয়ারা স্থানীয় সাগর শেখের স্ত্রী। শনিবার রাতে উদ্ধার হওয়া কিশোরী যৌনপল্লিতে তাঁর মায়ের সঙ্গে এক বছর ধরে বসবাস করত। উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটি নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে রোববার বিকেল চারটার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির আকরাম/বিউটির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ভাড়াটিয়া মঞ্জুয়ারার ঘর থেকে কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার এবং ওই ভাড়াটিয়াকে (মঞ্জুয়ারা) আটক করা হয়।

উদ্ধার হ্হওয়া কিশোরী জানায়, রাজশাহীর গোদাবাড়ি এলাকায় তার বাড়ি। অনেক আগে বাবা-মা দুজনেই মারা যান। এক বছর আগে ঢাকার নবীনগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেয়। এক সপ্তাহ আগে ওই আত্মীয় তার মূল্যবান জিনিসপত্র সব নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার দুই বন্ধুর কাছে কাজের অনুরোধ জানালে তারা ওই যৌনপল্লির বিউটি/আকরামের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হতো।

শনিবার রাতে উদ্ধার হওয়ার কিশোরীর দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, গ্রামের বাড়িতে থেকে সে লেখাপড়া করত। এক বছর আগে সে যৌনপল্লিতে থাকা তার মায়ের কাছে চলে আসে। প্রায় নয় মাস আগে পল্লির লাল বানুর কাছে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তাকে মারপিট এবং দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো। পরে লোক মারফত সংবাদ দিলে পুলিশ শনিবার দিবাগত রাত সোয়া বারোটার দিকে তাকে উদ্ধার এবং বাড়িওয়ালিকে আটক করে।

কিশোরী জানায়, রাজবাড়ীর কালাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার মায়ের বিয়ে হয়। তারা তিন বোন ও এক ভাই। সে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করত। দু’বছর আগে বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি। এক বছর আগে মা ওই পল্লির বাড়িওয়ালা ফজলুর কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেয়। বিনিময়ে ওই বাড়িতে তাকে রেখে দেয় এবং দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে। ৩-৪ মাসেও ঋণ শোধ না হওয়ায় ফজলু এক লাখ টাকা নিয়ে লালবানুর কাছে তাকে বিক্রি করে।

আটক লাল বানুর দাবি, বছরের অধিকাংশ সময় সে (কিশোরী) ফজলুর কাছে ছিল। এক মাস আগে ফজলু তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে বিনিময়ে মেয়েটিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে রেখে যায়। টাকা পরিশোধ হলেই সে অন্যত্র চলে যাবে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শাহজালাল বলেন, শনিবার রাতে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়েরের পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং আসামি লাল বানুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার বিকেলে উদ্ধার হওয়া শিশুটির ব্যাপারেও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

 

 


এই নিউজটি 589 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments