রাজবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ মিয়ার ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ ,৩১ জানুয়ারি, ২০১৬ | আপডেট: ৭:৪০ অপরাহ্ণ ,১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক :  রাজবাড়ীর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ মিয়া ইন্তেকাল করেছেন । ইন্না লিল্লাহে…….রাজিউন ।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন ।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর ।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলা সদরে তার নিজ গ্রাম লক্ষ্মীকোল রাজার বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। এরআগে বিকেল ৫টায় তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়।

এ সময় জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ মিয়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষীকোল গ্রামের মৃত মৌলভী ইব্রাহিমের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ছেলে ও ২ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

৩০জানুয়ারি সকাল ১১টায় তার প্রথম নামাজে জানাযা ঢাকার সুবজবাগে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মৃতদেহ আছরের নামাজের একটু পরে রাজবাড়ীতে আনা হলে মাগরিব বাদ বড় মসজিদে (খানকা শরীফ) তার ২য় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত সাড়ে ৬টায় লক্ষীকোল রাজারবাড়ীর মাঠে তার ৩য় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তার জানাজায় রাজবাড়ী-১আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডঃ এম.এ খালেক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সাবেক কমান্ডার আবুল হোসেন, ফকির আব্দুর জব্বার, মহসিন উদ্দিন বতু, মোহাম্মদ শহিদ্দুল্লাহ, রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম এর সম্পাদক এম.এ খালেদ পাভেলসহ জেলার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শেষে এশার নামাজের আগে লক্ষ্মীকোলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রফিক, শফিক ও সাদির কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শায়িত করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ইলিয়াছ মিয়া যুদ্ধকালীন সময়ে রাজবাড়ীর ৮নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধে তিনি মাথায় ও কাধে গুলিবিদ্ধ হোন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তিনি সাড়ে ৩মাস রাশিয়ায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে আসেন। দেশে আসার কিছু দিন পর থেকেই তিনি ঢাকার সুবজবাগে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি তেজগাঁও তাবানী বেভারেজ কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। সেখান থেকে অবসরের পর তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টে চাকুরী করতেন।

প্রায় ৬বছর আগে তিনি রোগশোকে আক্রান্ত হোন। প্রায় ৪ বছর আগে তিনি হৃদরোগে (স্টোক) আক্রান্ত হয়ে শয্যাশয়ী হয়ে পড়েন। এছাড়াও তার স্ত্রী গত ২ বছর ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী হয়ে রয়েছে।

দাম্পত্য জীবনে তিনি এক পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তার বড় ছেলে ঢাকা দারুল এহসান প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ পাশ করে বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। মা-বাবা দুজনই অসুস্থ থাকায় তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে দীর্ঘদিন বাসায় থাকায় চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ে সে। তার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

অপর দিকে মা ও মুক্তিযোদ্ধা বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ মিয়ার পরিবার।

 

 


এই নিউজটি 581 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments