,

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বঙ্গবন্ধুর বহনকারী বিমান উপহার দিতে চান ক্যাপ্টেন মোস্তফা আজিম

News

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর নয় মাস যুদ্ধের বিজয় অর্জিত হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারী। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড.কামাল হোসেনকে পাকিস্তান থেকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তাঁরা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমান বন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে(ডিসি-১০) যোগে পরের দিন ৯ই জানুয়ারী দেশের পথে যাত্রা করেন। ১০ই জানুয়ারী সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামেন দিল্লীতে। এরপর ওইদিন ১০ই জানুয়ার বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন।

গত ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর নিলামে তোলা পুরনো তিনটি বিমান কিনে নেয় ব্রিটিশ এয়ারলাইনসে সিনিয়র ক্যাপ্টেন ও প্রশিক্ষক বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইলের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন মোস্তফা আজিমের মালিকানাধীন ইম্পেরিয়াল এভিয়েশন। ৩টি বিমানের মধ্যে ১কোটি ৩০ লাখ টাকায় কেনা ডিসি-১০ বিমানটির ভিআইপি যাত্রী পরিবহন লকবুক পরীক্ষা করে ক্যাপ্টেন মোস্তফা আজিম জানতে পারেন, ওই বিমানযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এর পরই তিনি আর বিমানটি ভাঙতে দেননি। বরং বিমানটি সচল রেখে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিযুক্ত হওয়ায় বিমানটি তিনি বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর এই উপহার প্রদানের বিষয়টি তিনি সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) ফারুক খানকে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগামী জুন মাসে বিমানটি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত সরকারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাননি।

 

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর