,

এক বছর পর পরিবারের কাছে ছুয়াদ

News

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলা শহরের কুলি পট্টির নিমতলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পর অবশেষে শিশু ছুয়াদকে (৫) খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার। দীর্ঘ সময় পরেও শিশু সন্তানকে ফিরে পেয়ে আল্লাহ্’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন ছুয়াদের বাবা রানা আহম্মেদ ও মা মরিয়ম বেগম।

গত রোববার রাতে রাজবাড়ী জেলা শহরের ভাবানীপুর এলাকার এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের কাছে পাওয়া যায় শিশু ছুয়াদকে।  এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হয় সে।

ছুয়াদের মা মরিয়ম বেগম জানান, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল ছুয়াদ। এ সময় তিনি (মরিয়ম) রান্না ঘরে রান্না করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি রান্না ঘর থেকে বাইরে এসে দেখেন ছুয়াদ নেই। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেও ছুয়াদের সন্ধান পাননি তারা। ওইদিন রাতে তারা রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৬৪৭,তাং-১৬/০২/২০১৫ইং) করেন।

ছুয়াদের বাবা রানা আহম্মেদ বলেন, ছুয়াদ নিখোঁজ হবার পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ করেছি। পত্রিকায় একাধিকবার এ বিষয়ে নিউজ হয়েছে। এছাড়া ছুয়াদকে খোঁজার ব্যাপারে পুলিশও আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী রেল স্টেশন থেকে মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে বিশেষ ওরশ ট্রেন ছাড়াকে কেন্দ্র করে শহরে অনেক লোকের সমাগম হয়েছিল। তাই ওইদিন বিকেলে রাজবাড়ী শহরে ছুয়াদকে খোঁজার জন্য মাইকিং করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রেন ফিরে আসার দিনও মাইকিং করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এরপর রাজবাড়ীর মাছবাজার এলাকার লিটন নামের এক যুবক ছুয়াদের ছবি দেখে জানায় ভবানীপুরে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের কাছে সে ছুয়াদকে দেখেছে। খবর পেয়ে রো্ববার রাত ৯টার দিকে লোকজন নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি ছুয়াদ ঘুমিয়ে আছে। পরে সেখান থেকে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

আবেগ আপ্লুত হয়ে আল্লাহ্’র প্রতি শুকরিয়া আদায় করে রানা আহম্মেদ ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, আল্লাহ্’র অশেষ রহমতে দীর্ঘ এক বছর পরও আমরা আমাদের আদরের ছেলেকে খুঁজে পেয়েছি। ছেলে আমাদেরকে চিনতে পেরেছে। আজকে আমরা অনেক আনন্দিত।

বৃদ্ধা ভিক্ষুক জানান, তার মেয়ে ছুয়াদকে কুড়িয়ে পেয়েছিল। মেয়ে বিদেশে যাওয়ার আগে তার কাছে ছুয়াদকে রেখে গেছে।

ভিক্ষুকের প্রতিবেশীরা জানান, বৃদ্ধাকে শিশুটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন শিশুটি তার বোনের ছেলে। এ কারণে কেউ বুঝতে পারেনি এটি ছুয়াদ।

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর