৩৭দিন রাজবাড়ী ও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি থাকার পর বাবার বাড়িতে ফিরেছে মারিয়া

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ ,২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ | আপডেট: ১০:৩১ অপরাহ্ণ ,২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পিকচার

শিহাবুর রহমান॥ ৩৭দিন রাজবাড়ী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মৃত্যুকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরেছে মারিয়া। এই ৩৭দিনে মারিয়াকে দেখভাল করেছে মানবকল্যানে নিয়োজিত সংগঠন অধিকারের কর্মীরা। মারিয়াকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করাতে এ পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫/৮০ হাজার টাকা ।

গত ১২ফেব্রুয়ারী মারিয়াকে বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ হান্নান মাষ্টার ও বহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় অধিকারের কর্মীরা মারিয়াকে তার পিতা বাড়ীতে দিয়ে আসে। মারিয়া বালিয়াকান্দি উপজেলার চর ফরিদপুর গ্রামের দিনমজুর আজাহার জোয়ার্দ্দারের মেয়ে।

অধিকারের কর্মীরা জানান, সংসারে অভাব-অনটন থাকার কারণে তার বাবা মাত্র ১৬বছর বয়সে মারিয়ার বিয়ে হয় একই উপজেলার বেতেঙ্গা গ্রামের আঃ গফুরের ছেলে নসিমন চালক রাসেল মোল্লা (২৫) এর সাথে। বিয়ের সময় মারিয়ার বাবার বাড়ি থেকে রাসেলকে উপহার হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণের কানের দুল ও স্বর্ণের চেইন দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পড়েই মাদকাসক্ত রাসেল নেশা করে ওই টাকা নষ্ট করে ফেলে। এরপর সে মারিয়াকে আবারো তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ টাকা এনে দিতে বলে। মারিয়া টাকা আনতে অস্বীকার করলে রাসেল মারিয়ার উপরে অমানুষিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। স্বামীর সংসারে নির্যাতন সহ্য করে থাকা অবস্থায় বিয়ের বছর দুই পরে মারিয়ার কোলে আসে এক পুত্র সন্তান। তার নাম রাখা হয় রাজু। রাজুর বয়সও এখন ৪বছর। পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করার পরও মারিয়ার উপর নির্যাতন থেমে থাকেনি। স্বামী রাসেলের সাথে তাল মিলিয়ে নির্যাতন করেছে পরিবারের অন্য সদস্যরাও। শুধু তাই নয় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বহু বার। কিন্তু বার বারই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মারিয়া ফিরে গেছে স্বামীর সংসারে। এভাবেই মারিয়া অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেছে দীর্ঘ ৬টি বছর।

সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর মারিয়াকে নির্যাতন করে শিশু সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। নিরুপায় হয়ে মারিয়া তার হতদরিদ্র পিতার কাছে এসে আশ্রয় নেয়। সেখানেই স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছিল মারিয়া। কিন্তু ক্রমশই সে বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত ৫জানুয়ারী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় মারিয়া। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় মারিয়ার স্থান হয় ফোরে। হাসপাতালের ফোরে অনেকটা অবহেলায় পড়ে থাকার ৩দিন পর তাদের সাথে (অধিকারের কর্মী) দেখা হয় মারিয়ার। মারিয়ার কাছ থেকে কথা শোনার পর ওই তারা প্রথমে সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আব্দুল হান্নানের সাথে আলাপ করে। ডাক্তার আব্দুল হান্নান তাদেরকে কয়েকটি টেস্ট করার জন্য লিখে দেন। এরপর মারিয়াকে তারা নিজ খরচে ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসে। রিপোর্ট দেখে ডাঃ আব্দুল হান্নান জানায় মারিয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তারা আরো জানান, মারিয়াকে উন্নত পরীক্ষা করার জন্য গত ১৫জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে হেমোটলোজি ডির্পামেন্টের হেড ডাক্তার সালমা আফরোজের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা করা হয়। আর ব্রন মেরু স্ট্যাডি পরীা করা হয় পিজি হাসপাতাল থেকে। এ সব রিপোর্ট করতে গিয়ে তাদের খরচ হয় ৭৫/৮০ হাজার টাকা। আর এ টাকা তারা কিছু ব্যক্তিদেরসহ রাজবাড়ী সরকারী কলেজ, রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও অংকর স্কুলে ক্যাম্পিং করে জোগাড় করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪দিন থাকার পর গত ৩০জানুয়ারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মারিয়াকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এরপর তাকে আবার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গত ১২ফেব্রুয়ারী সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে মারিয়াকে তার পিতার বাড়ীতে আওয়ামীলীগ নেতা আঃ হান্নান মাষ্টার ও আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় তাকে পৌছে দেয়া হয়। শ্বশুর বাড়ীর লোকজন যাতে মারিয়ার কোন তি না করতে পারে সেজন্য স্থানীয় রাজনীতি আবুল কালাম আজাদ তার দায়িত্ব নেন।

তারা আরো জানান, মারিয়াকে আবারো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসক জানিয়েছেন ওর বর্তমান অবস্থার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী চিকিৎসা নেয়া হবে ।


এই নিউজটি 778 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments