লিবিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত রহিমের লাশ চান পরিবার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ ,২৮ মার্চ, ২০১৬ | আপডেট: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ ,২৮ মার্চ, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিহত রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার আব্দুর রহিম ব্যাপারী (২৬) এর পরিবারে শোকের মাতম চলছে। উপার্যনক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে আহাজারি করছেন রহিমের মা রাহেলা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর শোকে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন রহিমের স্ত্রী শিল্পী বেগম। শুধু পরিবারেই নয়, প্রবাসে রহিমের অকাল মৃত্যুতে পুরো গ্রাম জুড়েই নেমে এসেছে শোকের ছায়া  ।

নিহত রহিমের পরিবার ও গ্রামবাসীর এখন একটাই চাওয়া, নিজ গ্রামে যেন চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেন রহিম। এজন্য রহিমের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

নিহত রহিম নবগ্রাম এলাকার মোঃ মোসলেম ব্যাপারীর ছেলে। ৪ ভাই বোনের মধ্যে রহিম বড়। হাসান ব্যাপারী নামে তার চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহত রহিমের বাবা মোঃ মোসলেম ব্যাপারী জানান, প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে আব্দুর রহিম দেশ ছেড়ে মিশরে পাড়ি জমান। সেখানে ৭/৮ মাস কাজ করার পর দালালের মাধ্যমে লিবিয়াতে যান তিনি। লিবিয়াতে একটি টাইলস এর ফ্যাক্টরিতে কাজ করে স্বাচ্ছন্দেই কাটছিলো রহিমের প্রবাস জীবন। কিন্তু গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে নিহত হন রহিম। রহিম ছাড়াও এ ঘটনায় আরো ৩ বাংলাদেশী নিহত হন। রহিম শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত হলেও পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন রোববার দুপুরে। রহিমের সহকর্মী বিল্লাল ফোন করে এ সংবাদ জানান। তখন থেকেই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় কান্নার রোল।

কান্নাজড়িত কন্ঠে রহিমের মা রাহেলা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ছাওয়ালডারে শেষ দেখা দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমার চাওয়া, রহিমের লাশ যেন তারাতারি দেশে আনা হয়।’ এসময় রহিমের শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য দাবি করেন রাহেলা।

এদিকে, সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মাহবুবুর রহমান নিহত রহিমের বাড়িতে গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা দেন। এসময় তিনি যত দ্রুত সম্ভব সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাশ দেশে আনা ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

 

 


এই নিউজটি 598 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]