রাজবাড়ী গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের অধঃপতন, স্কুল ব্যাগে গর্ভ নিরোধ ট্যাবলেট

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ ,১৩ এপ্রিল, ২০১৬ | আপডেট: ১০:২০ অপরাহ্ণ ,৬ মার্চ, ২০১৭
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (গার্লস স্কুল) বেশ সংখ্যক ছাত্রী দিন দিন অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কিশোরী বয়সে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নানা অপকর্ম করে চলেছে তারা। এদের মধ্যে অনেকেই আবার কিশোরী প্রেম বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক বিষন্নতায় ভুগছে। অতিসম্প্রতি বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তল্লাশী চালিয়ে কয়েকজন ছাত্রীর স্কুল ব্যাগ থেকে অকাল গর্ভধারণ নিরোধ ট্যাবলেট, স্কুলে ব্যবহার নিষিদ্ধ মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রীরা এ ধরণরে কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানাগেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ও বখে যাওয়া কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবকদের ডেকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শিক্ষক , অভিভাবক ও স্কুলের ছাত্রীবৃন্দসহ সচেতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে । কোমলমতি ছাত্রীদের হাতে মোবাইলফোন তুলে দেওয়ার কারণেই তাদের এ অধঃপতন ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল ।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর বেশ সংখ্যক ছাত্রীই দামী মোবাইলফোন ও ফেসবুক ব্যবহার করে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার অভিভাবক ও নিকট আত্মীয়দের ভয়ে ফেইক নামে ফেসবুক আাইডি খুলে ব্যবহার করে। এছাড়াও তারা আবেগের বশভূতী হয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। ওই বিদ্যালয়ের এমন বেশকিছু ছাত্রীর সন্ধান মিলেছে যারা সাধারণ জীবন-যাপন করার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দোষে প্রেমেরে সম্পর্কে জড়িয়ে অপকর্ম করতে বাধ্য হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী বলে, আমাদের স্কুলের বেশ সংখ্যক ছাত্রী প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণীতে উঠার পর ছাত্রীদের মধ্যে রিলেশনের আগ্রহ বেশি জন্ম নেয়। আমি নিজেও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কোন রিলেশনে জড়াই নি। নবম শ্রেণীতে উঠার পর আমার এক কাছের বান্ধবী আমাকে তার বয় ফ্রেন্ডের বন্ধুর সাথে রিলেশন করার প্রস্তাব দেয় । প্রথমে আমি রাজী হয় নি। কিন্তু ওদের রিলেশনশীপ দেখে পরবর্তীতে আমারও রিলেশন করার ইচ্ছা হয় । এরপর আমি রিলেশনে জড়িয়ে পড়ি । শেষ পর্যন্ত আমার ওই রিলেশন টিকে নি। স্কুলের ছোটদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই কেউ যেন এভাবে রিলেশনে জড়িয়ে না পড়ে ।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থ্য থাকা দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী বলে, অষ্টম শ্রেণীতে উঠার পর একটা ছেলে আমাক প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এরপর আমি ওই ছেলরে সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি । এক বছর সম্পর্ক চলার মাঝে আমরা ফোনে অনেক কথা বলতাম, ফেসবুকে চ্যাট করতাম। এছাড়াও কয়েকবার বাইকে ঘুড়েছি । এক পর্যায়ে ওই ছেলে তার সাথে আমাকে শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করার প্রস্তাব দেয় । এতে আমি রাজী না হওয়ায় সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে আমি দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থ্য ছিলাম। ঠিকমতো খেতে পারতাম না, ঘুমাতে পারতাম না, পড়ালেখা করতে পারতাম না।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও অধঃপতন রোধে স্কুল চলাকালীন সময়ে ছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও মোবাইল আনা নিষিদ্ধ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু ছাত্রী অতি গোপনে লুকিয়ে স্কুলে মোবাইল ফোন এনে ব্যবহার করে থাকে। গত ৬ই এপ্রিল নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী ক্লাস চলাকালে শ্রেণী কক্ষের বাইরে এসে লুকিয়ে মোবাইলে কথা বলছিলো। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্কুলের শিক্ষকগণ ওই ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি জব্দ করেন এবং তার অভিভাবকদের খবর দেন। এ ঘটনার পরদিন গত ৭ই এপ্রিল স্কুলের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের শ্রেণী কক্ষের বাইরে এনে ক্লাসে রাখা তাদের স্কুল ব্যাগে তল্লাশী করা হয়। তল্লাশীকালে ১০/১২টি মোবাইল ফোনের পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রীর ব্যাগে অকাল গর্ভধারণ নিরোধ ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের অভিভাবকদের তলব করে বিষয়টি জানানো হয়।

মনোয়ারা বেগম আরো বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কতিপয় ছাত্রীর এ ধরণের অধঃপতন মেনে নেয়া হবে না। কতিপয় ছাত্রীর জন্য স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া হবে না। জব্দকৃত মোবাইলের মধ্যে কয়েকটি ফোন এখনো আমাদের কাছে রয়েছে এবং কয়েকজন অভিভাবক স্কুলে এসে দুঃখ প্রকাশ করে মোবাইল নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রীদের অভিভাবকেরা উচ্চ শিক্ষিক ও প্রতিষ্ঠিত। আপাততঃ অভিযুক্ত ছাত্রীদের স্কুলে আসা বন্ধ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জন্য স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই স্কুলে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

সচেতন মহল বলেন,  রাজবাড়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জেলার অন্যতম সেরা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ধারাবাহিকভাবে বিদ্যালয়টির ছাত্রীরা এসএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে থাকে। ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির শিক্ষার্থীদের এ ধরণের অধঃপতনের খবর অপ্রত্যাশিত। ছাত্রী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাই ।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক


এই নিউজটি 8226 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]