বালিয়াকান্দিতে ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ২০

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ ,১৬ এপ্রিল, ২০১৬ | আপডেট: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ ,১৬ এপ্রিল, ২০১৬
পিকচার

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি॥ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহম্মদ আলী মাষ্টার এবং বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদিনই ঘটছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ফলে সাধারণ ভোটাররা রয়েছে আতংকে।

আগামী ২৩শে এপ্রিল ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৪ই এপ্রিল বিকেলে রামদিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষে ২০জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫রাউন্ড ফাকা গুলি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকগণ জানায়, ইসলামপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন খান গত বৃহস্পতিবার রামদিয়া রেলওয়ে মাঠে এক নির্বাচনী কর্মী সভার আয়োজন করে। সেখানে আগে থেকেই উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ফারজানা জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও সাংবাদিকরা অবস্থান করছিল। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন খান ও তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটর সাইকেল, মিনি ট্রাক, ম্যাজিক গাড়ী, নসিমন, করিমন নিয়ে রামদিয়া রেলওয়ে মাঠে ঢোকে। ঢোকার সময় রামদিয়া বাজারের মধ্য এলাকা থেকে তার গাড়ী লক্ষ্য করে আওয়ামীলীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহম্মদ আলী মাষ্টারের সমর্থকরা ইট-পাটকেল ছোড়ে ও লাঠি শোঠা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আবুল হোসেন খানের কর্মী হামলায় আহত-রক্তাক্ত হলে তার সঙ্গে থাকা লোকজন উত্তেজিত হয়ে লাঠি শোঠা নিয়ে প্রতিপক্ষদের ধাওয়া করলে দু’গ্র“প সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও একপর্যায়ে রামদিয়া বাজার এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। দুই ঘন্টা ধরে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।

খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএমের নেতৃত্বে আরো একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৫রাউন্ড ফাকা গুলি করে। সংঘর্ষে থানার এস.আই দিপন কুমার মন্ডল, স্থানীয় সাংবাদিক এস.এম রাহাত হোসেন ফারুক, হাসানুজ্জামান, আবুল হোসেন খানের সমর্থক সালাম বিশ্বাস, আবুল কাশেম মোল্যা, আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ আলী খানসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হন। আহতদেরকে বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় রামদিয়া বিএনবিসি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ফুটবল মাঠে ১টি মোটর সাইকেল, আবুল হোসেন খানের নির্বাচনী প্রচার মাইক ও অটোবাইক পুড়িয়ে দেয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা। আরো অন্তত ৭/৮টি মোটর সাইকেল, ম্যাজিক গাড়ী ভাংচুর করে। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের নিকট থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ও ২টি মোটর সাইকেল, আইফোন ভাংচুর করে।

বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খানের অভিযোগ, গণসংযোগের সময় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ মাষ্টারের লোকজন অতর্কিতভাবে তার উপর হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবী করেন, অতর্কিত হামলার কারণে তার ১২জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহত ৯জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকী ৩জন আলমগীর, কাশেম ও ছালাম বিশ্বাসকে বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ছালাম বিশ্বাস ও কাসেমের অবস্থা অবনতি ঘটায় তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আহম্মদ মাষ্টার জানান, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল হোসেন খানের লোকজন আমার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও তারা ভাংচুর করে। হামলায় তার ৭/৮জন কর্মী আহত হয়।

স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিক্ষোভ করাসহ শ্লোগান দেয়। তাদের অভিযোগ বালিয়াকান্দি থানার ওসি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন খানের পক্ষে কাজ করছে। এ সময় তারা রামদিয়া বাজারে ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, দুই পক্ষের গোলযোগের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ৫রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যই ২রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। গুলি ছোড়া না হলে বড় ধরনের অঘঠন ঘটতে পারত।

খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান, রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার(সার্কেল) মোঃ রবিউল ইসলাম, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে খোজখবর রাখা হচ্ছে।

 


এই নিউজটি 1880 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments