প্রকৌশলী হতে চায় কাঠমিস্ত্রী রিপন!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ ,১৭ মে, ২০১৬ | আপডেট: ১:২৮ অপরাহ্ণ ,১৭ মে, ২০১৬
পিকচার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট : দারিদ্রতা কোন বাধা নয়, যদি ইচ্ছা শক্তি দৃঢ় হয়। এ কথাটি বার বার প্রমাণ করে চলেছে রিপন মাহমুদ। দিনমজুর বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে কৃষিকাজ ও কাটমিস্ত্রীর কাজ করেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে রিপন। শুধু তাই নয় এর আগে পিএসসি ও জেএসসিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল রিপন।

রিপনের এ অবিশ্বাস্য সফলতায় তার পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠি ও এলাকাবাসী আনন্দে আত্মহারা। রিপনও স্বপ্ন দেখছে ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হবার।

রিপন মাহমুদ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউপির দিনমজুর মো: ইউনুছ আলীর ছেলে। সে মৃগী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো।

রিপনের বাবা ইউনুছ আলী জানান, বসতবাড়ির ছয় শতাংশ জমি ছাড়া সম্পদ বলতে তার আর কিছুই নেই। দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে রিপন সবার বড়। তার দুই মেয়ের একজন অষ্টম শ্রেণি ও অপরজন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। নিজের কোন জমিজমা না থাকায় অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতে হয় তাকে। কৃষি কাজ না থাকলে কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করেন তিনি। রিপনও তার সঙ্গে কৃষিকাজ ও কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করে।

২০১০ সালের পিএসসি পরীক্ষাতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় রিপন। তখন থেইে শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীদের নজরে আসে সে। এরপর অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে লেখাপড়ায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও দমে যায়নি অদম্য রিপন।

শিক্ষক, সহপাঠি, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। জেএসসি পরীক্ষাতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে রিপন। এ বৃত্তি পাবার ফলে পড়াশুনায় একটু সুবিধা হওয়াতে এবারের (২০১৬ সালের) এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সাফ্যল্যের সিড়িতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রিপন। তবে দারিদ্রতাকে জয় করে ভবিষ্যতে এ সফলতা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে রিপন ও তার পরিবার। সমাজের বিত্তবানদের কাছে পড়াশুনার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে তারা।  02

ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করে রিপন বলে, সব মানুষেরই জীবনে একটা লক্ষ্য থাকে। আমার জীবনের লক্ষ্য আমি একজন প্রকৌশলী হবো। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই আমি শত দারিদ্রতার মাঝেও কাজের পাশাপাশি পড়ালেখা করে চলেছি। জানি না ভবিষ্যতে দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো কিনা। তবে আমি হার মানবো না।

লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করে রিপন বলে, সমাজে আমার মতো অনেক হতদরিদ্র মেধাবী ছাত্র রয়েছে। যারা অর্থের অভাবে পড়ালেখা করতে পারছে না। সমাজের বিত্তবানরা যদি আমাদের মতো ছাত্রদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে এ দেশে কোন অশিক্ষিত মানুষ থাকবে না। দেশ সোনার দেশে পরিণত হবে।

ছেলের সাফল্যে আবেগ আপ্লুত হয়ে রিপনের বাবা ইউনুছ আলী বলেন, যাদের সহযোগিতায় আমার ছেলে ভালো ফলাফল করেছে আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। রিপনকে আমি শুধু বাড়িতে থাকতে আর তিনবেলা খেতে দিতে পেরেছি। পড়াশুনার ব্যাপারে ওকে আমি সহযোগিতা করতে পারিনি। বরং সংসার চালানোর জন্য ওই কৃষিকাজ ও কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে আমাকে সহযোগিতা করেছে। কাজের পাশাপাশি পড়ালেখা করে ও যে এত ভালো রেজাল্ট করবে আমি কল্পনাও করিনি। ওর ইচ্ছা শক্তি অনেক মজবুত। আরও পড়াশুনা করে রিপন জেলা ও এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবে। এ সময় ছেলের পড়াশুনার জন্য বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন ইউনুছ আলী।

রিপনের বিদ্যাপিঠ মৃগী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাজাহান আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবার পাঁচজন জিপিএ গোল্ডেন এ প্লাসসহ ১১জন শিক্ষার্থী প্লাস পেয়েছে। এদের মধ্যে রিপন একজন। রিপন অনেক পরিশ্রমী এবং মেধাবী একজন ছাত্র। সৃজনশীল মেধা বিকাশে ঢাকা বিভাগের প্রথম হয়েছিল রিপন। আমি শতভাগ আশাবাদী ওকে একটু সহযোগিতা করলে ও ঠিকই একদিন ওর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। আমি ওর শিক্ষা জীবনের উন্নতি কামনা করি।

 

আপডেট : মঙ্গলবার মে ১৭,২০১৬/ ০১:১৫ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1715 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments