,

জ্যৈষ্ঠ মাসেও পানি শূন্য চন্দনা!

News

 রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক॥ “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে।” কিন্তু এখন আর বৈশাখ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। পৌষ মাসেই নদীর পানি শুকিয়ে হাটুর নীচে চলে যায়। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের যাতায়াত ও চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নদী ও নদী পথ। এ দেশের মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস এই নদীকে কেন্দ্র করে।

তেমনি একটি নদীর নাম চন্দনা। যার জন্ম পদ্মা নদী থেকে। রাজবাড়ী জেলার পাংশা ও কালুখালী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম দিয়ে বেষ্টিত এই নদীটি। যার এক সময় যৌবন ছিলো। এক সময় এই নদীতে বড় বড় পানশি নৌকা চলতো। এই পানশি নৌকা থেকেই পাংশা ও কালুখালী নামের উৎপত্তি বলে মনে করেন অনেক গবেষকরা। কিন্তু এ নদীটি এখন মরা। বৈশাখ আসার আগেই পৌষ মাসেই নদীটির পানি শুকিয়ে হাটুর নীচে চলে যায়।

এই নদীর যৌবন ফিরে আনার জন্য ২০১৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কাগজ-কলমে খনন করলেও তার কোন সুফল পায়নি মানুষ। মূলতঃ নদী খননের নামে হয়েছে সরকারী অর্থের লুটপাট। তখন নদী খননের নামে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে নদীর মধ্য থেকে কিছু মাটি তুলে দুই পাড়ে ফেলে নদীটি খালে পরিণত করা হয়। এরফলে কিছু দিন প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ীরা মাটি বিক্রির ব্যবসায় মেতে উঠে। সেই খননের পর থেকে চন্দনা নদী আরো পানি শূন্য হতে শুরু করে। চন্দনা এখন নাব্যতা হারিয়ে পরিনত হয়েছে মরা খালে। নদীর পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন।

স্থানীয়রা জানান, অনেকেই এই চন্দনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। এছাড়াও কৃষি জমিতে সেচ, গৃহপালিত পশুর গোসলসহ বিভিন্ন কাজে নদীর পানির ব্যবহার করে দুই পাড়ের কৃষক ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন বর্ষার সময়ও এ নদীতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানাযায়, এক সময় চন্দনা নদীর প্রশস্ত ছিলো ৫শত ফুটেরও বেশী। বর্তমানে সেটা বেদখলের প্রতিযোগিতার কারণে সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ১০০ ফুটের মত।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর