গোয়ালন্দে ইউএনও’র বিরুদ্ধে শ্রমিককে থাপ্পরের অভিযোগ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ ,১৬ জুন, ২০১৬ | আপডেট: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ ,১৬ জুন, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ  উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষের বিরুদ্ধে আ. রহিম (৪০) নামের একজন নির্মাণ শ্রমিককে চর-থাপ্পর মারার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুর ১ টার দিকে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন সংলগ্ন আনছার ক্লাব এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

শ্রমিক আ. রহিম গোয়ালন্দ পৌরসভার নীলুশেখের পাড়ার আতর আলী শেখের ছেলে।

নির্মাণ শ্রমিক আ. রহিম অভিযোগ করে বলেন, আমি ও অপর দু’জন শ্রমিক পৌরসভার অধীনে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেন তৈরির কাজ করছিলাম। ড্রেনের পাশে দুইটি বড় মেহগনি গাছ থাকায় আমরা গাছ দু’টির একপাশের কয়েকটি চিকন শেকর কাটি। তবে এতে গাছের কোন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। এ সময় পাশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজন কাজ বন্ধ করতে বললে আমরা কাজ বন্ধ রাখি। এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও স্যার এসে আমাকে গালিগালাজ করেন এবং কার কথা মতো আমরা এখানে কাজ করছি বলে ধমকাতে থাকেন। এ সময় তার কথার উত্তর দেয়ার সুযোগ না দিয়েই তিনি আমার গালে বেশ কয়েকটি চড়-থাপ্পর মারেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষ শ্রমিককে চড়-থাপ্পর মারার কথা স্বীকার করে বলেন, গাছ কাটার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এছাড়া সরকারী জায়গায় কাজ করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগলেও পৌর কতৃপক্ষের তা নেই। অনুমতি না থাকায় আপাতত কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে ইউএনও’র হাতে নির্মাণ শ্রমিক প্রহৃত হওয়ার খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পৌর মেয়র শেখ মো. নিজাম ও কাউন্সিলররাসহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই শ্রমিককে শান্তনা দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইউসুফ আলী জানান, শ্রমিকরা অন্যের কাজ করে। এ ক্ষেত্রে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে বুঝা-পড়া করা উচিত। ইউএনও স্যার অন্যায় ভাবে তাদের শ্রমিককে মারধর করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা সাংগঠনিক ভাবে কর্মসূচী গ্রহন করবেন।

গোয়ালন্দ পৌর মেয়র শেখ মো. নিজাম বলেন, বাজারের প্রধান সড়কসহ বাজার এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ড্রেন নির্মাণ কাজের অংশ হিসেবে পৌরসভা থেকে ওই এলাকায় কাজ চলছিল। ড্রেনের পাশে বড় দুইটি মেহগনি গাছ থাকায় গাছ দু’টির ক্ষতি না করে শুধু মাত্র কয়েকটি চিকন শেকড় কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই কাজই ওই শ্রমিক করছিল। এ নিয়ে আপত্তি থাকলে ইউএনও সাহেব আমাকে বলতে পারতেন। সাধারণ একজন শ্রমিকের গায়ে হাত তোলা তার উচিত হয়নি। জনস্বার্থে সরকারী মালিকানাধীন গাছের দু’টি শেকড়ও যদি না কাটা যায় তাহলে তারা কিভাবে কাজ করবেন বলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

 

(সূত্র – গোয়ালন্দ নিউজ)

 


এই নিউজটি 522 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments