,

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত কারিগররা, রাজবাড়ীর টুপি যাচ্ছে ওমানে

News

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সহস্রাধিক টুপি’র কারিগর। তবে এ টুপি বাংলাদেশে বিক্রির জন্য নয়, পাঠানো হচ্ছে ওমান।

শুক্রবার (১৭ জুন) দুপুরে কথা হয় টুপি’র মহাজন বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গাড়াকোলা গুনপাড়া গ্রামের মোঃ জুলফিকার আলীর সাথে। তিনি জানান, তিনি মালয়েশিয়াতে ৪বছর চাকুরী করেন। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। তার আপন চাচাতো ভাই ওমান প্রবাসী হুমায়ন কবিরের উৎসাহে তার সাথে যৌথভাবে এ অঞ্চল থেকে টুপি তৈরী করে ওমানে পাঠানোর ব্যবসা শুরু করেন ২০০৪ সাল থেকে। আর এ টুপি তৈরীর জন্য বেছে নেন এলাকার গৃহিনী ও শিক্ষার্থীদের।

বর্তমানে বালিয়াকান্দি, তালপট্রি, খাগুরিয়া, মহারাজপুর, বকচর, বেরুলী, হিজলী, সোনাপুর, চরকুলটিয়া, বেতবাড়ীয়া, খড়খড়িয়া, শালমারা, গাড়াকোলা, খালিয়াসহ পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের সহস্রাধিক কারিগর এ টুপি তৈরী করে উপার্জন করেন। ঈদকে সামনে রেখে এখন তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে।

জুলফিকার আলী আরো জানান, প্রতিটি টুপি তৈরী করতে ৭ থেকে ৮শত টাকা খরচ হয়। টুপি গুলো বিদেশী সুতা কাপড় দিয়ে তৈরী করতে হয়। ১০০ টুপি তৈরী করতে দরকার হয় এক লাখ টাকা। টুপি রপ্তানি করে লাভবান হলেও তার এতো পুঁজি না থাকার কারণে অর্থাভাবে অভাবে এখন সীমিত আকারে করা হচ্ছে। কারিগরদেরকে টুপি নেওয়ার পরেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ টুপি সেলাই করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। তিনি এ কাজ করে ২ ছেলে ও ১ মেয়ের লেখাপড়া চালাচ্ছেন। ছেলে রায়হান মাহমুদ জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্স ফাইনাল ইয়ারে অধ্যায়নরত ও ইমরান মাহমুদ ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে মাষ্টার্স পাশ করেছে। মেয়ে জান্নাতি কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে।  তার সংসার ভালোই চলছে।

তিনি বলেন, বছরে দুই ঈদসহ ৩বার টুপি গুলো আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। সরকারীভাবে বিনা সুদে ঋনের ব্যবস্থা করা হলে টুপির বিস্তর করা সম্ভব হবে। এতে এলাকায় বেকার সমস্যার সমাধান হবে অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

জুলফিকার আলীর বাড়িতে টুপি সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত গৃহবধু আরজিনা বেগম জানান, সংসারে কাজের পাশাপাশি তিনি টুপির হাসু ভরার কাজ করেন। দিনে কমপক্ষে ২টি টুপির হাসু ভরা কাজ করে ১শত টাকা আয় করেন। এতে তার সংসারে দিনে দিনে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে।

গৃহবধু নাসরিন বেগম জানান, সংসারে কাজের ফাকে মাসে ২টি করে টুপির হাতের নকশা করা যায়। এতে ১হাজার টাকা তার আয় হয়। সংসারের কাজ করার পরও অবসর সময়ে এ কাজ করে তিনি নিজের খরচ যোগার করতে পারেন। তার মতো অনেক নারীর এ কাজের সাথে জড়িত।

নারুয়া মুন্সী ইয়ার উদ্দিন আহম্মেদ বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী উর্মি ও শালকী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া জানায়, তারা পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপির হাসু পড়ানোর কাজ করে। এতে তাদের পড়ালেখার খরচ চলে যাচ্ছে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর