পিঁপড়ার কামড়ে জঙ্গলে চিৎকার করছিল নবজাতক!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ ,১৮ জুন, ২০১৬ | আপডেট: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ ,১৮ জুন, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : তখনো ঠিক মতো ভোরের আলো ফোটেনি। জঙ্গলের মধ্য থেকে অনবরত ভেসে আসছে সদ্যজাত একটি শিশুর আর্ত চিৎকার। টের পেয়ে এক বৃদ্ধা এগিয়ে গিয়ে দেখলেন ফুটফুটে একটি কন্যা শিশু। সামান্য কাপড় পেঁচানো শিশুটির সারা দেহ প্রসবকালীন রক্তে ভেজা। রক্তের স্বাদ নিতে শিশুটির সারা দেহ ছেয়ে গেছে অসংখ্য লাল পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকা-মাকড়ে। পরম মমতায় বৃদ্ধা শিশুটিকে তুলে নিয়ে শুরু করলেন পরিচর্যা।

বাবা দিবসের মাত্র এক দিন আগে বাবা-মায়ের পরিচয় বিহীন এভাবে শিশুটি উদ্ধার হলো। ঘটনাটি শনিবার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর রমজান মাতব্বর পাড়া এলাকার।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই বৃদ্ধার নাম আন্না বেগম (৬০)। তিনি জানান, ঘুম থেকে উঠে বাড়ীর আঙ্গিনায় যেতেই তিনি রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্য হতে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। এগিয়ে দেখি তার সারা শরীর রক্ত-পানি ও ধুলো-বালিতে মাখামাখি। সেই সাথে অসংখ্য পিপড়ে-ডায়া শিশুটিকে কামড়াচ্ছে। মুহুর্তেই তিনি শিশুটিকে তুলে বাড়ীর ভিতর নিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। শিশুটির গতরাতেই জন্ম হয়েছে এবং শেষ রাতের দিকে তাকে কেউ এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি ধারণা করেন।

এদিকে পাশের বাড়ীর ছানোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী ছালমা বেগম খবর শুনে সেখানে ছুটে যান। এই দম্পতি নয় বছরের সংসার জীবনে নিঃসন্তান রয়েছে। তারা শিশুটিকে চাইলে আন্না বেগম নিঃসন্তান ছালমা বেগমের কোলে শিশুটিকে দিয়ে দেয়। এ দম্পতি সঙ্গে-সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু চিকিৎসক ডা. আশিষ কুমার বড়াল জানান, শিশুটির সারা শরীরে পোকা-মাকড়ের কামড়ের দাগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। একদিনের মধ্যে অসস্থার উন্নতি না হলে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করতে বলেছি।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, নয় বছরের সংসার জীবনে আমাদের কোন সন্তান নেই। ওর জন্ম যেভাবেই হোক সৃষ্টিকর্তা হয়তো ওকে আমাদের জন্যই জন্ম দিয়েছেন। আমরা ওকে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করতে চাই।

ছালমা বেগম জানান, আমি শিশুটিকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। আমার শূণ্য কোল পূর্ণ হয়েছে। ওকে আমি হারাতে চাই না। ও আমার সন্তান হিসেবেই বড় হবে। আমি শিশুটির নাম দিয়েছি সুমাইয়া আক্তার রোজা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, শিশুটি সম্ভবত কারো অবৈধ গর্ভধারণের ফসল। নিজেদের মুখ রক্ষা করতে শিশুটির প্রকৃত বাবা-মা কিংবা আপনজনদের কেউ এভাবে ফেলে রেখে গেছে। তবে শিশুটির সৌভাগ্য সে কোন শেয়াল-কুকুরের মুখে পড়েনি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিশুটির ব্যপারে পুলিশকে এখনো পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। তবে শিশুটি সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার বিষয়টি আগে জরুরী। এটি হচ্ছে সেটি খুবই ভালো কথা। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।

( সূত্র – গোয়ালন্দ নিউজ.কম)


এই নিউজটি 2764 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments