থাপ্পর মেরে ছাত্রীর কান ফাটালেন প্রধান শিক্ষক!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ ,২৪ জুন, ২০১৬ | আপডেট: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ ,২৪ জুন, ২০১৬
পিকচার

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি : স্কুলের কোচিং ক্লাসে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে পড়া ধরেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে ছাত্রীর পড়ার উত্তর দিতে অসুবিধা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীর কানে সজোরে থাপ্পর মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন ওই শিক্ষক। এরপর ছাত্রীকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া শ্যামা মোহন ইনষ্টিটিউশনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই প্রধান শিক্ষকের নাম মোঃ শাহজাহান মিয়া এবং ছাত্রীর নাম আফরোজা খাতুন। সে জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতিমোহন গ্রামে পাচু বিশ্বাসের মেয়ে।

ছাত্রী আফরোজা খাতুন জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে কোচিং ক্লাস চলাকালে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া তাকে পড়া ধরেন। এসময় মাথা ঘুরার কারণে সে পড়ার উত্তর দিতে পারে না। তবে মাথা ঘুরার বিষয়টি সে প্রধান শিক্ষককে জানায়। কিন্তু তারপরেও পড়ার উত্তর না দিতে পারায় প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাম কানে থাপ্পর মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন।

এতে কানের পর্দা ফেটে সে (ছাত্রী) অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রশিদের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু তার কানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আব্দু রশিদ তাকে চিকিৎসা না দিয়ে দ্রুত বালিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আফরোজার মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার মেয়ে সকাল ৯টার দিকে স্কুলে কোচিং করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া আমার মেয়েকে কানে থাপ্পর মারার কারণে অসুস্থ্য হলে তাকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আফরোজার বাবা পাচু বিশ্বাস বলেন, স্কুলে একটি বই না নেওয়ার ফলে প্রধান শিক্ষক আমার মেয়েকে মারপিট করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। আমি প্রধান শিক্ষকের বিচার চাই।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুফিয়া ইয়াসমিন বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সে এখন অনেকটা শঙ্কামুক্ত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিলেন । আমি তাদেরকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


এই নিউজটি 1560 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments