রাজবাড়ীতে ইফতার মাহফিল নিয়ে মুখোমুখি বিএনপি’র দুই গ্রুপ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ ,২৭ জুন, ২০১৬ | আপডেট: ১:২৮ অপরাহ্ণ ,২৭ জুন, ২০১৬
পিকচার

বিশেষ প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ী জেলা বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা ও গ্রুপিংয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এবার ইফতার মাহফিলকে ঘিরে বিষয়টি আর গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না। একই দিনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণার ফলে বিশৃঙ্খলা ও গ্রুপিংয়ের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ পেল।

আগামী ২৮জুন শহরের আজাদী ময়দানস্থ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ এবং শহরের অংকুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সভাপতি গ্রুপের ইফতার মাহফিল। একই দিনে এ পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণা প্রকাশ পাবার পর জেলাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। ওইদিন ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনও রয়েছে যথেষ্ট সক্রিয়।

গ্রুপিংয়ের একটি গ্রুপে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুণ-অর-রশীদ, জেলা বিএনপি’র অন্যতম সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এম.এম খালেক এবং সহ-সভাপতি এ্যাড. আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা, উপজেলা, পৌর ও জেলার সকল ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নবীন-প্রবীন ত্যাগী নেতাকর্মী।

গ্রুপিংয়ের অপর গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তার সাথে রয়েছেন ওয়ার্কাস পার্টি থেকে আসা জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

মূলত দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা এবং অবস্থান জানান দিতেই একই দিনে ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে গ্রুপিংয়ের বিষয়ে দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দদেরই রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ বলেন, জেলা বিএনপি’র ত্যাগী এবং মূল নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা আগামী ২৮জুন জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। জেলা বিএনপি’র ব্যানারে ওই ইফতার মাহফিলে জেলার ১০ হাজার নেতা-কর্মীদেরকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাহফিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে অনুমদনও নিয়েছি। কিন্তু, ওয়ার্কাস পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদান করে দলীয় ফয়দা লুটা এবং পুরাতন ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে অমূল্যায়ন করা একটি চক্র আমাদের এ মাহফিলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারই অংশ হিসেবে তারা একই দিনে পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছে। পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়ে ওই সুবিধাবাদী চক্র আবারো প্রমান করলো, যে তারা আসলে পুরাতন ও ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে মূল্যায়ন করতে জানে না।

হারুন-অর-রশীদ আরো বলেন, আমি দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা ওই সুবিধাবাদী চক্র আমাকে কখোনই মূল্যায়ন করেনি। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে যে কোন কাজ তারা আমাকে বাদ দিয়ে করেছে। এমনকি তাদের স্বার্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে যেখানে আমার স্বাক্ষর প্রয়োজনে হয়েছে তারা আমাকে না জানিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যানিং করে আমার স্বাক্ষর বসিয়ে নিয়েছে।

জেলা বিএনপি’র অন্যতম সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এম.এ খালেক বলেন, জাগো দল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে যারা দল করেন আমরা তাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করি। ‘ওয়ান ইলেভেনের’ সময় যারা নিজের জীবনকে বাজী রেখে দলের স্বার্থে কাজ করেছেন, সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন আমরা তাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করি। কিন্তু ওয়ার্কাস পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদানকৃত দলীয় সুবিধাভোগী একটি চক্র বরাবরই আমাদের অমূল্যায়ন করে থাকে। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ওই চক্র দলীয় সুবিধা ভোগ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছে। অথচ ‘ওয়ান ইলেভেনের’ সময় ওই চক্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোর বিরোধীতায় লিপ্ত ছিলো। আগামী ২৮জুন পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়ে তারা আবারো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরোধীতা করলো।

এ্যাড. এম.এ খালেক আরো বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা ছিলো ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা সুবিধাবাদী ওই গ্রুপের হাতে। এ ক্ষমতা হাতে পেয়েও তারা দলের সাথে বেইমানী করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রকৃত সৈনিকদেরকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত করে তারা ওয়ার্কার্স পার্টির অংগ সংগঠন ছাত্র মৈত্রী থেকে বিএনপিতে আসা ক্যাডারদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাদের এ বেইমানীর ফলে বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিএনপি’র ভরাডুবি হয়েছে।

অপরদিকে, জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আগামী ২৮জুন আামরা শহরের অংকুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। জেলা বিএনপি’র ব্যানারে আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিম্যে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে প্যান্ডেল নির্মানের কাজও শুরু করেছি। কিন্তু সরকারী দলের ছত্রছায়ায় থাকা একটি গ্রুপ দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে একই দিনে পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছে। যা অত্যান্ত ঘৃনিত কাজ।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির (পিপিএম) বলেন, একই দিনে জেলা বিএনপি’র দুই গ্রুপের ইফতার মাহফিলে যে কোন ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনা এড়াতে আমরা যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছি।

 


এই নিউজটি 6116 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from রাজনীতি