দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন, ঝুঁকির মুখে ১৩শ পরিবার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ ,২২ জুলাই, ২০১৬ | আপডেট: ৫:০২ অপরাহ্ণ ,২২ জুলাই, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক॥ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে তিন সপ্তাহে পদ্মা তীরবর্তী তিনটি গ্রাম এবং ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকার অর্ধশত পরিবারের বসতভিটা পদ্মায় বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরো প্রায় ১৩শ পরিবার।

গতকাল ২১শে জুলাই দুপুরে ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবী জানিয়ে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছে। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম নুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ ঘোষ, দৌলতিদয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল জানান, গত ২০দিনে দুটি ওয়ার্ডের অন্তত ৪০পরিবারের বসতভিটা পদ্মাগর্ভে যায়। ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে আরো প্রায় ১৩০০টি পরিবার। ফেরি ঘাট থেকে আক্কাছ আলী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক ভাঙ্গনের মুখে। এক সপ্তাহে সড়কের ছাত্তার মেম্বার পাড়ায় প্রায় ৭০০ফুট পদ্মায় গেছে। গত বছর ভাঙ্গনে ২নম্বর ওয়ার্ডটি সম্পূর্ণ পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।

ছাত্তার মেম্বার পাড়ার গেদা মন্ডল, ছামাদ শেখ, মনি মোল্যা, মিরাজ মোল্যা ও লাল্টু মোল্যা জানান, গত বছর ভাঙ্গনে শেষ হয়ে এখানে আশ্রয় নেই।

ইউপির ১নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মজিদ ফকির জানান, কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পানি বাড়ায় ফের ভাঙ্গন দেখা দেয়। ছাত্তার মেম্বার পাড়ার প্রায় পাঁচ’শ পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ফেরি ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় ২নম্বর ঘাটটি যেকোন মুহুর্তে বন্ধের আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন সংস্থা(বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পানি বাড়ার সাথে ভাঙ্গনও বেড়ে যাওয়ায় ২নম্বর ঘাটটি যেকোন মুহুর্তে বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করতে চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। ২নম্বর ঘাট বন্ধের উপক্রম হলে সময় উপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন, যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে দৌলতদিয়াঘাট রক্ষা করাই কঠিন হয়ে দাড়াবে। সামান্য বরাদ্দে এখানে তেমন কিছু হবেনা। তাই আগামী সপ্তাহে দুর্যোগ ও ত্রাণ এবং নৌমন্ত্রীকে এলাকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 2510 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments