,

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন চলছে

News

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : বিআইডব্লিউটিএ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদাসিনতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নদী ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বুধবার রাত ৮টার দিকে এখানকার ৪নং ঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অপর ৩টি ঘাটও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২১ জুলাই রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করে এখানকার ভাঙ্গনের ভয়াবহতা তুলে ধরে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানকে ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া ঘাট সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী দৌলতদিয়া বাহিরচর এলাকার তিনটি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারকে রক্ষার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে দ্রত ব্যবস্থা নিতে নৌমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীকে অত্র এলাকা পরিদর্শন করানোর ঘোষণা দেন।

কিন্তু নদীর ভয়াবহতা বেড়ে গেলেও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয় ভাবে বাঁশের পাইলিং গেড়ে ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে ওই এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ৪নং ফেরিঘাট সংলগ্ন পাকা সড়কের বেশীর ভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়। এতে ফেরিঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘাট থেকে বাহিরচর গামী ক্ষতিগ্রস্থ কাঁচা রাস্তাটির কয়েকটি জায়গায় ভেঙ্গে গিয়ে সজোড়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় বাহিরচর এলাকার বসতীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী-পুরুষ মিলে একে একে দ্রুত সরাতে থাকে সহায় সম্বল ও ঘর-বাড়ী। বন্যার পানিতে চারদিক প্লাবিত হওয়ায় এ সমস্ত অসহায়রা এক রকম খোলা আকাশের নীচেই অবস্থান করছে।

এদিকে ভাঙ্গনের কারণে ৩নং ফেরিঘাটের তিনটি পকেটের মধ্যে দুইটি পকেট বুধবার থেকে বন্ধ হয়ে আছে। ২নং ঘাটকে রক্ষার জন্য বিআইডব্লিউটিএ শেষ মুহুর্তে কাঠের পাইলিং স্থাপন করে জিও ব্যাগ ফেললেও তীব্র স্রোতে নীচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় পাইলিং ও বস্তা উঠে যাচ্ছে। অল্প পরিসরে ঘাটটি চালু থাকলেও যেকোন সময় ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

ঘাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ও স্থানীয় পদস্থ কর্মকর্তারা দৌলতদিয়ায় আসেন। আলাপকালে তারা গোয়ালন্দনিউজকে জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ঘাটটি পুনরায় চালু করা হবে নাকি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে সে বিষয়ে এখনো পর্যবেক্ষন চলছে। বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অপর ঘাটগুলো রক্ষার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

অপরদিকে রুটের ১৮টি ফেরির মধ্যে তীব্র স্রোতের কারনে ৫টি ফেরি চলতে পারছে না। অপর ফেরিগুলো চলছে ধীরগতিতে। এ কারণে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে বিশাল টার্মিনাল পরিপূর্ণ হয়ে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নদী পাড়ের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে পড়েছে সহস্রাধিক বিভিন্ন যানবহন।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, একটি ঘাট বন্ধ ও তীব্র স্রোতে ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় নদী পাড়ের অপেক্ষায় যানবাহনগুলো সিরিয়ালে আটকা পড়ছে।

 (সূত্র- গোয়ালন্দ নিউজ.কম)

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর