‘মরণ ফাঁদে ঝড়লো প্রাণ’

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ ,৪ আগস্ট, ২০১৬ | আপডেট: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ ,৪ আগস্ট, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর রেল ক্রসিংয়ে গত ২ মাস ধরে বৃষ্টিতে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে বড় আকারের বেশ কয়েকটি খনা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই স্থানটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে প্রতিনিয়তই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

শুধু গত ২ মাস ধরেই নয়, ইতিপূর্বেও অনেকবার ওই স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে। কয়েকমাস পর পর সড়ক বিভাগ থেকে ওই স্থানটি পুণঃসংস্কার করা হলেও এ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কোন সমাধান মেলেনি। পুণঃসংস্কারের সময় নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয় বলে মানুষকে বার বার এমন ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন গাড়ি চালক ও স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বসন্তপুর রেল ক্রসিংয়ে পরিবহন গাড়ির ধাক্কায় আসমা বেগম (৫০) নামের এক নারী অটোরিক্সা যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২ জন।

নিহত আসমা বেগম বসন্তপুর ইউনিয়ের হাটজয়পুর গ্রামের মৃত আসাদুজ্জামান বাবলু ওরফে বাবলু মাষ্টারের স্ত্রী। আহতরা হলেন- একই গ্রামের ছত্তার শেখের মেয়ে নিপা বেগম (৩৫) ও মোঃ কামাল শেখের ছেলে সালাউদ্দিন শেখ (৩৫)।

বড় আকারের ওইসকল খনা-খন্দের কারনেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন দুর্ঘটনা কবলিত অটোরিক্সার চালক রিপনসহ স্থানীয়রা।

রিপন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি বন্তপুর বাজার থেকে অটোরিক্সায় করে ৫জন যাত্রী নিয়ে গোয়ালন্দ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় অটোরিক্সাটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বসন্তপুর রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছালে এ,কে ট্রাভেলস এর একটি পরিবহন গাড়ি অটোরিক্সাটিকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিক্সাটিতে থাকা ৫ যাত্রীর মধ্যে ৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আসমা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। বাকী আহত দু’জনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, পরিবহন গাড়িটি ওই মুহুর্তে একটু দ্রুত গতিতে আসছিলো। রেল ক্রসিংয়ে বড় আকারের খনা-খন্দ থাকার কারনে চালক গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে অটোরিক্সাটিকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়।PIC.psd~1

দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইমদাদুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ঘাতক পরিবহনটিকে আটক করা হয়েছে। তবে পরিবহনের চালক ও হেলপার কৌঁশলে পালিয়ে গেছে।

বসন্তপুরের স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভের সাথে জানান, বসন্তপুর রেল ক্রসিংটি একটি জলজ্যান্ত মরণ ফাঁদ। হালকা বৃষ্টি নামলেই এ স্থানটিতে বড় আকারের খনা-খন্দের সৃষ্টিহয়। এতে প্রতিনিয়তই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে কয়েকমাস পর পর সড়ক বিভাগ থেকে ওই স্থানটি পুণঃসংস্কার করা হয়। ফলে কয়েকদিন ভালো থাকার পর ওই স্থানে আবারো খনা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে মানুষকে বার বার এমন ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।

বসন্তপুর রেল ক্রসিংয়ে বার বার এমন ভোগান্তি থেকে পরিত্রান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় জনগন ও গাড়ি চালকরা।

 

আপডেট : বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৪, ২০১৬/ ০৭: ৩৫ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 672 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments