,

গোয়ালন্দে পদ্মার তান্ডবে গৃহহীন ৫৫৩ পরিবার

News

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ তান্ডবে ৫৫৩টি পরিবার গৃহহীন হয়ে হয়ে পড়েছেন। সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো ঠিকমত মাথা গোজার ঠাই পাচ্ছেন না। অনাহারে-অর্ধানাহারে অতিকষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ঢল্লা পাড়া, আফছার শেখের পাড়া, ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজির পাড়া, সাত্তার শেখের পাড়াসহ নদীর তীরবর্তী বাহিরচর এলাকার ৫৫৩ পরিবার গত কয়েকদিনের ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন।

এদের মধ্যে বেশীর ভাগ পরিবারের ভিটে-মাটি পদ্মায় বিলিন হয়েছে। বাকীরা আতঙ্কেই ভিটে-মাটি ফেলে ঘর-বাড়ী সরিয়ে নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এক রকম খোলা আকাশের নীচে মানবেতরভাবে বেঁচে আছেন। পদ্মার পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় ভাঙ্গন পরিস্থিতি তীব্র হয়। এ সকল এলাকায় এখনো বসবাসকারী প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ফেরিঘাট এলাকায় শত শত খালি ভিটা পড়ে রয়েছে। পানি কিছুটা কমলেও ভাঙ্গন আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘর-বাড়ী সরানো অব্যাহত রেখেছে। ভাঙ্গা ঘর-বাড়ীগুলো পাশের মহাসড়কের ধারে, দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনাল, দৌলতদিয়া হেলিপ্যাড, রেল সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফেলছেন। অনেকেই কাছে-দুরের আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকেই শূণ্য ভিটায় এসে কুড়িয়ে নিচ্ছেন শেষ সম্বল টুকু।

আয়নাল বেপারী (৫৭), তোফাজ্জল হোসেন (৬০)সহ অনেকেই বলেন, মাত্র মাস ছয়েক আগে অনেক আশা করে ঘর তুলেছিলাম। এখনই তা আবার ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে নিজ হাতে। নিজের সাজানো সংসার ভেঙ্গে ফেলা যে কতো কষ্টের তা বোঝাতে পারব না।

ক্ষতিগ্রস্ত রাশেদ বেপারী বলেন, এক বছরও হয়নি ধার দেনা করে বাড়ীতে চৌচালা একটি টিনের ঘর তুলেছিলাম। নদীর ভয়াবহতার কারণে ঘরটিকে রক্ষা করতে এখন তা ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবো তা জানা নেই।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার নাছিমা খাতুন বলেন, আমি নিজেও ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ী সরিয়ে নিয়েছি। আমরা শত শত পরিবার এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবো। সরকারীভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেয়া না হলে এতগুলো পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষ বলেন, দৌলতদিয়ায় বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর মধ্যে ৫৩ মে.টন চাল ও নগদ ১ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গৃহহীনদের জন্য টিন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে এ এলাকা ও লঞ্চ-ফেরিঘাটকে রক্ষার জন্য নদী শাসন জরুরী হয়ে পড়েছে। এটা করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পুরোপুরি নিশ্চহ্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি।

(সূত্র- গোয়ালন্দ নিউজ.কম)

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর