রাজবাড়ীতে গ্রীড উপকেন্দ্র স্থাপনের জমি উচ্চ মূল্যে অধিগ্রহণ, সিন্ডিকেট করে কয়েক কোটি টাকা বেহাত

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ ,১৭ আগস্ট, ২০১৬ | আপডেট: ৫:২৮ অপরাহ্ণ ,১৭ আগস্ট, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক॥ রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের চরবাগমারা মৌজায় কুষ্টিয়া মহাসড়কের পার্শ্বে (পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিপরীতে) ‘রাজবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্র’ স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে ৫ গুন এবং মৌজা ভিত্তিক নির্ধারিত বাজার মূল্যের প্রায় ৪ গুন অধিক মূলে ৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারী কয়েক কোটি টাকা বেহাতের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ও তোলপাড় চলছে। ইতিমধ্যে একাধিক সংস্থা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে।

জানাগেছে, দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সমস্যা নিরসনের ল্েয সরকার দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার, কেএফডব্লিউ জার্মানী ও পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ(পিজিসিবি’র) যৌথ অর্থায়নে ওয়েস্টার্ণ গ্রীড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ‘রাজবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্র’ নির্মাণের জন্য পিজিসিবি’র ওয়েস্টার্ণ গ্রীড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাসুম আলম বক্সী গত ০৯/০৬/২০১৫ তারিখে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর বাগমারা মৌজায় ৫একর(৫শত শতাংশ) জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তার আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ১০ আইটেমের কাগজপত্র সংযুক্ত করে দেয়া হয়।

আবেদনের পরদিন ১০/০৬/২০১৫ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখা থেকে ফাইল উপস্থাপন করা হয়। ওই দিনই জেলা প্রশাসক উক্ত আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) ও সদর উপজেলা নিবাহী অফিসারকে যৌথভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। একই দিন উক্ত দুই কর্মকর্তা যৌথভাবে তদন্ত করে উক্ত ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাদের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিনই জেলা প্রশাসক ১৪/০৬/২০১৫ তারিখে ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভা আহবান করেন। কমিটির সভায় অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‘রাজবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্র’ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আবেদনের পর থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরব হয়ে ওঠে। শুরু হয় কতিপয় জমির মালিকের সাথে যোগসাজসে উচ্চ মূল্যে জমি অধিগ্রহণের কারসাজি।

৩ধারা নোটিশের আগের দিন প্রতারণামূলক উচ্চ মূল্যে এক শতাংশ জমির সাব-কবলা রেজিস্ট্রি ঃ ৫একরজমি অধিগ্রহণের জন্য পিজিসিবি আবেদন করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কতিপয় ভূমি মালিক অবৈধপন্থায় লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজসে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এর ৩ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকদের নোটিশ প্রদানের আগের দিন(গত ২৪/০৬/২০১৫ তারিখে) রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতারণামূলক অধিক দাম উল্লেখ করে এক রাজবাড়ী বিসিকের এক নারী কর্মকর্তা তার কলেজ পড়–য়া কন্যার কাছে মাত্র ১শতাংশ জমি ৩লক্ষ টাকায় বিক্রির (সাব-কবলা দলিল নং-৫৩০৬) রেজিস্ট্রি করেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানাগেছে, বর্তমানে চর বাগমারা মৌজায়(পল্লী বিদুৎ অফিসের বিপরীতে) কুষ্টিয়া মহাসড়কের সাথে লাগোয়া জমি ৫৫ থেকে ৬৫হাজার টাকা মূল্যে প্রতি শতাংশ নাল(ফসলী জমি) এবং তার চেয়ে একটু ভিতরে ৪০ থেকে ৩৫হাজার টাকা মূল্যে প্রতি শতাংশ নাল(ফসলী জমি) বিক্রি হচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, চর বাগমারা মৌজার শ্রেণী ভিত্তিক নির্ধারিত বাজার মূল্য প্রতি শতাংশ নাল জমি ৬৮,৬৯৩ টাকা, বাড়ী ৭,৭৫০টাকা, ভিটা ৫,৩৩৩ টাকা, বাগান ও পুকুর পাড় ২,৩০০টাকা, পুকুর ও ডোবা ১,৪৭৮ টাকা এবং পতিত জমি ২,৫০০ টাকা।

রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাব-কবলা দলিল নং-৫৩০৬, তাং-২৪/০৬/২০১৫ পর্যালোচনায় প্রকাশ, রাজবাড়ীর বিসিকে কর্মরত সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাঃ আফছানা জাহান উক্ত চরবাগমারা মৌজার এস.এ-২৭৯ ও বি.এস-৩৬২ দাগের ৬৩শতাংশ জমির মধ্যে তার কন্যা(জমি ক্রেতা) কাজী তানজিনা তাসকীন মৌ-এর কাছে ৩লক্ষ টাকায় ১শতাংশ জমি বিক্রি দেখান।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, মোছাঃ আফছানা জাহানের কন্যা কাজী তানজিনা তাসকীন মৌ কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী। মা-মেয়ে একই বাড়ীতে একই ঘরে বসবাস করে। শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণে সরকারীভাবে অতিরিক্ত মূল্য বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখার সার্ভেয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগসাজসে তিনি(আফছানা জাহান) তার বেকার কন্যার কাছে উক্ত জমি বিক্রি দেখান। তার এই দলিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির মূল্য বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং মোছাঃ আফছানা জাহান ৪৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২কিস্তিতে প্রায় কোটি গ্রহণ করেন।

রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এক দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যুতের গ্রীড উপকেন্দ্র’ নির্মাণের জমি অধিগ্রহণে মোটা অংকের আর্থিক দুর্নীতির জন্যই মৌজা ভিত্তিক সরকারী বাজার মূল্যের প্রায় ৪গুন অধিক মূল্যে মা ও মেয়ে প্রতারণামূলক মূল্যের দলিল সম্পাদন করা হয়। যা ওই জমি রেজিস্ট্রিকালে মোছাঃ আফছানা জাহানের আলাপচারিতায় প্রকাশ পায়।

কালেক্টরেটের এল.এ শাখা সুত্র জানায়, চর বাগমারা মৌজার জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য ০১/১২/২০১৫ তারিখে এল.এ শাখা থেকে সদর রাজবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেয়া হয়। ওই পত্রে বিগত ১বছরের মধ্যে (২৫/০৬/২০১৪ হতে ২৪/০৬/২০১৫ পর্যন্ত) চর বাগমারা মৌজায় কি রেটে জমি বেচাকেনা হয় তা জানতে চাওয়া হয়। একই চিঠিতে এল.এ শাখার সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলামকে জমির বিক্রয় তথ্য তালিকা সংগ্রহের জন্য এবং একই শাখার অফিস সহায়ক(পিওন) মোঃ আমজাদ হোসেনকে বিক্রির তথ্য তালিকা সংগ্রহ কাজে সহযোগিতার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নির্দেশ প্রদান করেন। তবে সরেজমিন জমির বিক্রির কোন তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি।

উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহকারী এল.এ শাখার সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক(এমএলএসএস) মোঃ আমজাদ হোসেন ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী মোঃ গোলাম আলীর দেওয়া ১২ মাসের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য তালিকা ২১/১২/২০১৫ তারিখে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আইয়ুব আলী মন্ডল প্রতিস্বাক্ষর করে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করেন।

সাব-রেজিস্ট্রারের ওই পত্রে, দলিল নং-১৮১২, তাং-০২/০৩/২০১৫ এর মাধ্যমে ৮.৩২ শতাংশ ভিটা জমি ৪৫হাজার টাকায় এবং ২৪/০৬/২০১৫ তারিখে সম্পাদিত মোছাঃ আফছানা জাহানের দলিল নং-৫৩০৬ এর ১শতাংশ নাল জমি ৩লক্ষ টাকায় বিক্রির তথ্য উল্লেখ করা হয়।

এরপর কালেক্টরেটের এল.এ শাখা থেকে পাশ্ববর্তী চরলক্ষীপুর মৌজার বিগত ১বছরের মধ্যে(২৫/০৬/২০১৪ হতে ২৪/০৬/২০১৫ পর্যন্ত) সময়ে জমির বিক্রয় মূল্য জানতে চাওয়া হলে ১৫/৩/২০১৬ তারিখে সাব-রেজিস্টার মোঃ আইয়ুব আলী মন্ডল তথ্য প্রেরণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, চরলক্ষীপুর মৌজার শ্রেণী ভিত্তিক নির্ধারিত বাজার মূল্য প্রতি শতাংশ নাল জমি ৪৩,৬৬৮ টাকা, বাড়ী ১,১১,১২৮ টাকা, ভিটা ১,১১,১২৮ টাকা, বাগান ও পুকুর পাড় ৪০,০০০ টাকা, পুকুর ও ডোবা ১৬,০০০ টাকা এবং পতিত জমি ২৪,০০০ টাকা।

কালেক্টরেটের এল.এ শাখার এক কর্মচারী জানায়, চরবাগমারা ও চরলক্ষীপুর মৌজার জমি বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১লক্ষ ৭২হাজার টাকা ধার্য্য করে তার দেড় গুন অর্থ্যাৎ প্রতি শতাংশ জমি ২লক্ষ ৫৮হাজার টাকা নির্ধারণ করে এবং জমির মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্ধারণ পূর্বক অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি)কে জেলা প্রশাসক ২৪/০৩/২০১৬ তারিখে পত্র প্রদান করেন।

ওই পত্রের প্রেক্ষিতে পিজিসিবি ১৮/০৪/২০১৬ তারিখে ১৩ কোটি ৯৮লক্ষ ৪হাজার ৯৩২টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। এরপর ১৫/০৫/২০১৬ তারিখ থেকে অধিগ্রহণকৃত ভূ-সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের টাকা সংশ্লিষ্ট মালিকদের মধ্যে প্রদান শুরু হয়। পিজিসিবি’র আবেদিত ৫একর জমির মধ্যে ৪৫৮ শতাংশ জমি ব্যক্তি মালিকানা এবং ৪২ শতাংশ ভিপি ‘খ’ তফশীলভূক্ত সম্পত্তি বলে জানাযায়। ৪৩জন জমির মালিকের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১৭জনকে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৭ কোটি ১৮লক্ষের অধিক টাকা ওই ফান্ডে জমা আছে।

কালেক্টরেটের এল.এ শাখার সুত্রটি আরো জানায়, জমির মালিকদের মধ্যে আব্দুল করিম বেপারী ২১,৭৭,৮৬২ টাকা, মোঃ ইসহাক মিয়া ৩০,৭২,৮২২ টাকা, মোঃ আব্দুল হালিম খা ৩০,৭২,৮২২ টাকা, আবু তাহের মিয়া ৮৯,৫৩,৪৮৮ টাকা এবং রাজবাড়ী বিসিকের ওই নারী কর্মকর্তা মোছাঃ আফছানা জাহানের জমির মধ্যে ৪৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ তিনি ২কিস্তিতে তিনি প্রায় কোটি গ্রহণ করেছেন।

এল.এ শাখায় মোটা অংকের উৎকোচ আদায় ঃ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানকালে সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক(এমএলএসএস) মোঃ আমজাদ হোসেন দালাল চক্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকদের কাছ থেকে শতাংশ প্রতি ৫০ থেকে ৭৫হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। এভাবে তারা কয়েক কোটি টাকা তারা আদায় করেছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালেক্টরেটের কয়েকজন কর্মচারী ও ভূক্তভোগী বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার স্বার্থেই জমির মালিকরা দালাল চত্রের মাধ্যমে শতাংশ প্রতি মোটা অংকের উৎকোচ দিয়েছে। আর মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হয় মোছাঃ আফছানা জাহানের ১শতাংশ জমি বিক্রির দলিল ব্যবহার করে। আর এ সিন্ডিকেট পুরো নিয়ন্ত্রণ করেন সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক(এমএলএসএস) মোঃ আমজাদ হোসেন। জনশ্রুতি আছে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মোঃ আমজাদ হোসেনকে এল.এ শাখায় বদলী করে আনা হয়।

তবে এ ব্যাপারে আলাপকালে সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক(এমএলএসএস) মোঃ আমজাদ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট ও উৎকোচ আদায়ের বিষয়টি মিথ্যা, গুজব ও কাল্পনিক বলে দাবী করেন। এ ছাড়াও সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, পিজিসিবি’র জমি অধিগ্রহণের ৩ধারার নোটিশ প্রদানের সময় এল.এ শাখায় সার্ভেয়ার মোঃ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাঃ আফছানা জাহান তার কন্যার নামে অধিক দামে ১শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।

এ বিষয়ে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্তে বিস্তারিত জানতে কালেক্টরেটের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আ.ন.ম আবুজর গিফারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে(সাংবাদিককে) তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ার পরামর্শ দেন এবং পিজিসিবি’র জমি অধিগ্রহণে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চ মূল্য ও দুর্নীতির বিষয় অস্বীকার করেন। স্বচ্ছতার তার অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, আমি কালেক্টরেটে যোগদানের পর ১৬/০৩/২০১৬ তারিখ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব)-এর দায়িত্ব পেয়েছি। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর চরলক্ষীপুর মৌজার বিগত ১বছরে জমি বিক্রির দর সংগ্রহের পর প্রতি শতাংশ জমির গড়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানকালে এল.এ শাখার কেউ আর্থিক সুবিধা গ্রহন করলে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জিনাত আরা বলেন, পিজিসিবি’র জমি অধিগ্রহণের মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানকালে এল.এ শাখার কোন দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ তিনি পাননি। তিনি আরো বলেন, সঠিক পন্থায় অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য বা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ।

(সূত্র – দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 1583 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments