ভাঙনে দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ঘাট বন্ধ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ ,২৯ আগস্ট, ২০১৬ | আপডেট: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ ,২৯ আগস্ট, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত আর ভাঙন। এর ফলে সোমবার (২৯ আগস্ট) সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে চারটি ঘাটের মধ্যে দুটি ঘাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৪ নম্বর ঘাটটিও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎ​সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় জানিয়েছে, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত আর ভাঙন। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে ২ নম্বর ঘাটের রর‌্যামসংলগ্ন সংযোগ সড়কের (বেজ) ২০ ফুটের বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে ফেরিতে ওঠার সংযোগ সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ঘাটটি বন্ধ করে দেয়। ৩ নম্বর ঘাট এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে তা চলাচলের উপযোগী হওয়ায় যানবাহন পারাপার অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ নম্বর ঘাটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩০ ফুট সড়কের অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ওই ঘাটে ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখলেও যেকোনো সময়ে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে। এর আগে গত ৬ আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে ১ নম্বর ঘাট। বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র দুটি ঘাট। এ ছাড়া ফেরির স্বল্পতায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হওয়ায় উভয় ঘাটে আটকা পড়ছে গাড়ি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মায় হঠাৎ করে পানি বাড়ায় তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের কারণে ভাঙনও শুরু হয়েছে। ভাঙনের কারণে ২ নম্বর ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর ঘাটটিও যেকোনো সময় বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনে ১ নম্বর ঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, পানি বৃদ্ধি ও কমার সঙ্গে ভাঙন ওঠানামা করছে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। এর আগে ভাঙন থেকে ফেরিঘাট সড়ক রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যানবাহন চলাচল অব্যাহত রাখতে এখনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্য​ক্তিরা জানান, একদিকে ফেরির স্বল্পতা রয়েছে, অন্যদিকে স্রোতের কারণে ফেরিগুলো পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পন্টুন। গত রোববার সকালে রোরো ফেরি শাহ মখদুম ৪ নম্বর ঘাটে ভিড়তে গিয়ে স্রোতের ধাক্কায় পন্টুনের ক্ষতি করে। পরে ঘাট মেরামত শেষে দুপুরে চালু হয়। এর আগে গত শনিবার বিকেলে দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ঘাটে রোরো ফেরি ভাষাশহীদ বরকত ও ৪ নম্বর ঘাটে এনায়েতপুরীর ধাক্কায় পন্টুন দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া তীব্র স্রোতে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে পৌঁছতে সময়ও লাগছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ৪ নম্বর ঘাট থেকে উজানের ২ নম্বর ঘাটের দূরত্ব মাত্র কয়েক শ গজ। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগছে ২০ থেকে ২৫ মিনিট।

(সূত্র- দৈনিক প্রথম আলো)


এই নিউজটি 2216 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments