ঈদ উদযাপনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের যতো প্রস্তুতি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ ,১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ।

এ উপলক্ষে গত ৩০ আগস্ট সকালে জেলা প্রশাসক জিনাত আরা’র সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে  প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক জিনাত আরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে সকল মহলের সহযোগিতার আহবান জানান। সভায় আলোচনান্তে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ঃ

ঈদের দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ঃ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ঈদের দিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী ও বেসরকারী ভবনের শীর্ষে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান/মালিকগণ কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও বিষয়টি ব্যাপক প্রচারের জন্য জেলা তথ্য অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়।

ঈদের প্রধান জামাত ঃ রাজবাড়ী রেলওয়ে ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায়ের পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। সদর উপজেলা কমপ্লেক্স ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। উক্ত ২টি জামাতের সময়সূচী মাইকে ব্যাপক প্রচারের জন্য জেলা তথ্য অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়াও শহরের অন্যান্য জামাতসমূহ ঃ খানকা শরীফ জামে মসজিদ(বড় মসজিদ), পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদ, আনসার ক্যাম্প জামে মসজিদ, দুধ বাজার জামে মসজিদ এবং শহরের অন্যান্য জামাতসমূহ এলাকাভিত্তিক মসজিদ/ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয়ভাবে সুবিধমত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রধান জামাতের পূর্বে অন্যান্য স্থানে জামাত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হয়।

রাজবাড়ী রেলওয়ে ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাতে বড়লক্ষ্মীপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ আবু জাফর বেলালী প্রধান ইমাম এবং রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্টেডিয়াম মসজিদের হাফেজ আবু বক্কার সানি ইমাম, ৩নং বেড়াডাঙ্গা জামে মসজিদের হাফেজ মুনির হোসেন সানি ইমাম, কোর্ট মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং মোল্লা বাড়ী জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মোঃ আঃ সবুর ঈদের মাঠে মোকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদগাহ ময়দানের দক্ষিণ পার্শ্বে আলাদা পর্দা টানিয়ে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা করা হবে। বৃষ্টি কিংবা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হলে ২টি প্রধান জামাত কোর্ট জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে ২য় জামাতে ইমামতি করবেন রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জাকের পার্টির ঈদের জামাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯টার পূর্বে তাদেরকে মাইক ব্যবহার না করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ঈদগাহ ময়দান সংস্কার ঃ রেলওয়ে ময়দানে ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথ সংস্কার করে ঈদগাহ ময়দানে যাতায়াতের সুব্যবস্থাসহ অন্যান্য ছোটখাট মেরামত/সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করা হয়।

ঈদগাহ ময়দান পরিষ্কারকরণ ঃ রাজবাড়ী পৌরসভা ঈদের আগের দিন বেলা ১১টার মধ্যে রেলওয়ে ময়দানে ঈদগাহ ময়দান পরিষ্কার করবে এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস বিভাগ প্রয়োজনে পানি দিয়ে ময়দানটি পরিষ্কারকরণে সহায়তা করবে। ময়দানের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে জামাতের পূর্বে মাঠ নামাজের উপযোগী করার সর্বপ্রকার ব্যবস্থাসহ ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পাইপের দন্ডে রঙিন পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করা হয়।

ঈদগাহ ময়দানে ওজুর পানির ব্যবস্থাকরণ ঃ রেলওয়ে ময়দানে ঈদগাহ ময়দানে পর্যাপ্ত অজুর পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করা হয়।

ঈদগাহ ময়দান সু-সজ্জিতকরণ ও তোরণ নির্মাণ ঃ রেলওয়ে ময়দানে ঈদগাহ ময়দানের আশপাশের স্থানসমূহ সুসজ্জিতকরণ ও ময়দানের প্রবেশ পথে তোরণ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করা হয়।

দৃশ্যমান ও প্রকাশ্য স্থান ব্যানার দ্বারা সজ্জিতকরণ ঃ রাজবাড়ী সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে রাজবাড়ী রেলগেট ও রেলওয়ে ময়দানে ঈদগাহ ময়দান পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে “ঈদ মোবারক” ও কলেমা তাইয়্যিবা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” বাংলা ও আরবীতে লিখিত পতাকা ও ব্যানার দ্বারা সজ্জিত করার জন্য এবং শহরের মধ্যস্থিত প্রধান সড়ক সজ্জিতকরণ ও উল্লেখযোগ্য মোড়গুলোতে ঈদের শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টারিং করার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র ও রাজবাড়ী চেম্বার-অব কমার্সের সভাপতিকে অনুরোধ করা হয়।

আলোকসজ্জা ঃ বিদ্যুৎ ঘটাতির কারণে পবিত্র ঈদ উদযাপন উপলক্ষে সীমিত আকারে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রধান সড়কে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করা হয়।

উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ঃ পবিত্র ঈদের দিনে রাজবাড়ী সরকারী শিশু পরিবার, সদর হাসপাতাল ও জেলা কারাগারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়ে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে আহবায়ক এবং রাজবাড়ী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, জেলা তথ্য অফিসার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও রাজবাড়ী কালেক্টরেটের নাজিরকে সদস্য করে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।

অন্যান্য সিদ্ধান্তসমূহ ঃ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ঈদগাহ মাঠে ত্রিপলের ব্যবস্থা করার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ জানানো হয়। জামাতস্থলে পর্যাপ্ত মাইকের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র ও জেলা তথ্য অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়। স্ব-স্ব সরকারী/বেসরকারী ভবন/ভবন প্রাঙ্গন পরিষ্কার রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রধানকে অনুরোধ জানানো হয়।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে শহরের সকল রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ জানানো হয়। ঈদগাহ মাঠে প্রবেশের পথে গাড়ী, রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহন সুষ্ঠুভাবে চলাচলের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের করার জন্য রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয় এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হতে ঈদগাহ ময়দান পর্যন্ত যাতে গাড়ী পার্কিং করা না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে যাতে ঈদের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়াও একই দিন পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় পশু কোরবানীর স্থান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলার তিনটি পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পৌরবাসীকে তাদের কোরবানীর পশু জবাই ও পশুর বর্জ্য ও ময়লা পরিবেশ দূষনের আগেই পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী দ্বারা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোরবানীর পশু জবাইয়ের স্থান পৌর মেয়রের নেতৃত্বে পৌর কাউন্সিলরগণের সমন্বয়ে নির্ধারণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সকল বিষয় তদারকি করবেন। ১৮বছরের নীচে কোন ঈমাম কোরবানীর পশু জবাই করতে পারবেন না।

পবিত্র ঈদ উদযাপনের কর্মসূচী ব্যাপক প্রচার করার জন্য এবং ঈদের দিন সকাল ৬টার মধ্যে ঈদগাহ ময়দানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক সরবরাহ করার জন্য জেলা তথ্য অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়।

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর হাট-বাজারগুলোতে আগত গরু-ছাগলের অ্যানথ্রাক্স রোগ আছে কিনা সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং চামড়া পাচার রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়।

সিনেমা হলগুলোতে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন এবং দৃশ্যমান জায়গায় অশ্লীল পোস্টার প্রদর্শন রোধের বিষয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ব্যাপারে সিনেমা হল মালিকগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ জানানো হয়।

ঈদের দিন গোদার বাজার হতে হর্টিকালচার পর্যন্ত সকলের যাতায়াত ও ভ্রমনের বিনোদন যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও ইভটিজিংসহ রাস্তায় বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালনা, পটকা ফুটানো ইত্যাদি সার্বিক বিষয়ে নিরাপত্তা বিধান করার জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিটি ঈদগাহ পরিচালনা কমিটিকে তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ভলান্টারী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ঈদ-উল-আযহা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ঈদগাহ ময়দান সমূহে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 388 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments