ডুবন্ত ফেরি থেকে হূদয়-চেরা ভালোবাসা হতাশার শেষ বার্তা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ ,১৮ এপ্রিল, ২০১৪ | আপডেট: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ ,১৯ এপ্রিল, ২০১৪
পিকচার

Ferry1অনলাইন ডেস্ক :: ৪৭৫ জন যাত্রী ও নাবিক। যাত্রীদের বেশির ভাগই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে ডুবে যাচ্ছে একটি ফেরি। তারা বুঝতে পারছিল, মৃত্যু প্রায় আসন্ন। তাই দেরি না করে মুঠোফোন-বার্তা পাঠাতে শুরু করে অনেকে। প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে যায় তাদের আতঙ্ক, মৃত্যুভয় ও হতাশার নানা অনুভূতি। হূদয়-চেরা সেই বার্তাগুলো পুরো জাতিকে বিমূঢ় করে দিয়েছে। ভাসিয়েছে আবেগে।
এসব হূদয়বিদারক বার্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হলে অন্য রকম এক আবেগ সঞ্চারিত হয়। ফেরিটি গত বুধবার সকালে উল্টে একপর্যায়ে ডুবে যায়।
শিন ইয়ং-জিন নামের এক ছাত্র ওই ডুবন্ত ফেরি থেকে মায়ের উদ্দেশে লিখেছিল, ‘এই বার্তা পাঠাচ্ছি তোমার কাছে। কারণ, হয়তো আর কোনো দিনই কথাটা বলতে পারব না। মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা তখনো জানতেন না, ছেলে তখন দ্রুত ডুবন্ত জাহাজ থেকে নিজেকে বাঁচানোর প্রাণপণ লড়াই করছিল। জবাবে তিনি শিনকে লিখেছিলেন, ‘ওহ্, আমিও তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
অবশ্য শিন শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়। এমন সৌভাগ্য অন্যদের ছিল না। ১৬ বছর বয়সী ছাত্র কিম উং-কি তার ভাইয়ের কাছে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিল। সে লিখেছিল, ‘আমার ঘরটা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কাত হয়ে গেছে। মুঠোফোনও ঠিকমতো কাজ করছে না।’
জবাবে কিমের ভাই উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে লিখেছিলেন, ‘ভয় পেয়ো না। তোমাদের যা যা করতে বলা হয়, তা-ই করো। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ এরপর কিমের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
শিন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বাবাকে বার্তা পাঠিয়েছিল, ‘বাবা, চিন্তা কোরো না। আমি লাইফজ্যাকেট পরেছি এবং অন্য মেয়েদের সঙ্গেই আছি। এখনো আমরা ফেরির ভেতরে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩৬৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁরা গণনায় সমস্যা ছিল উল্লেখ করে জানান, ১৭৯ জনকে উদ্ধার করেছেন তাঁরা। অন্যরা এখনো নিখোঁজ।’

ছয় হাজার ৮২৫ টন ওজনের ফেরিটি গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০০টা) বিপত্সংকেত পাঠায়। এর দুই ঘণ্টার মধ্যে সেটি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। তাত্ক্ষণিক দুর্ঘটনার কোনো কারণ জানা যায়নি।


উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত: প্রতিকূল আবহাওয়া, ঘোলাটে পানি এবং জোরালো স্রোতের কারণে ফেরি উদ্ধারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই জরুরি সেবা বিভাগ এখনো নিখোঁজ ৩০০ জনের অনুসন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এএফপি।


এই নিউজটি 1502 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from বিশ্বজুড়ে