হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খড়ম

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ ,২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ৯:১৫ অপরাহ্ণ ,২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : আশির দশকেও বাংলাদেশে অনেকেই ব্যবহার করতেন কাঠের পাদুকা বা খড়ম। এখন তেমন আর ব্যবহার হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশে খড়মের ব্যবহার অনেক প্রাচীন।

ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় ১৩০৩ সালে বিখ্যাত সুফি দরবেশ ও পীর হজরত শাহজালাল (রহ.) সুদূর তুরস্ক থেকে সিলেটে এসেছিলেন খড়ম পায়ে দিয়ে। তার ব্যবহৃত খড়ম এখনও তার সমাধিস্থল সংলগ্ন স্থাপনায় রক্ষিত আছে।

কিছুকাল আগেও খড়মের শব্দে গৃহস্থরা বুঝতে পারতেন তাদের বাড়িতে কেউ আসছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কাঠের তৈরি পাদুকা খড়ম এখন শুধুই স্মৃতি। কালের আবর্তে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের পাদুকা খড়ম। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

চামড়া, রেকসিন, প্লাস্টিক, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জুতায়  এখন মানুষের আগ্রহ বেশি। পায়ে শোভা বর্ধন কারী এসব পাদুকার সাথে বিগত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়েছে বার্মিজ জুতা। বাংলাদেশের নগর-মহানগর, শহর- এমনকি গ্রাম বাংলার মানুষের পায়ে পায়ে এসব জুতা এখন শোভা বর্ধন করে।

জানা যায়, কাঠ দিয়ে তৈরি খড়ম পরিবেশবান্ধব। তারপরও মানুষ এটিকে পরিহার করেছে। অপরদিকে বার্মিজ জুতা মানুষের মাথা গরম করা, পায়ের নিচের স্তরের চামড়া মোটা করে বয়রা নামক রোগের সৃষ্টি করে। বয়রায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন।

একজন প্রবীণ বাসসকে জানান, ৭০ এর দশক পর্যন্তও জনপ্রিয় পাদুকা ছিল খড়ম। তবে সে সময় পশুর চামড়ায় তৈরি জুতাও কম-বেশি ছিল। পরে যানবাহনের চাকায় ব্যবহৃত টায়ার ও টিউব কেটে তৈরি হয় এক ধরনের জুতা। যার নামকরণ করা হয় টায়ার জুতা। কালের আবর্তে ওই টায়ার জুতা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পরে আসে সেন্ডেল। বর্তমানে বাহারি মডেলের সেন্ডেলে বাজার সয়লাব। একটি কাষ্ঠ পাদুকা খড়ম তৈরি করতে (মজুরি ও কাঠের দাম বাবদ) বর্তমান বাজারে খরচ পড়ে দেড় থেকে ২শ’ টাকা। পক্ষান্তরে বার্মিসের একটি পাদুকা পাওয়া যায় মাত্র ৮০ থেকে ১শ’ টাকায়।

আর একজন প্রবীণ জানান, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও বার্মিস জুতা ব্যবহার করতে হয়। খড়ম পায়ে দিয়ে চলাফেরা করলে বেমানান মনে হবে বিধায় ইচ্ছা থাকলেও খড়ম ব্যবহার করি না।

তবে এখনও খড়ম পায়ে দিয়ে চলাফেরা করেন এমন মানুষও কম-বেশি আছেন। মূলত তারাই ধরে রেখেছেন প্রাচীন জুতা খড়ম। খবর-বাসস।


এই নিউজটি 522 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments