সন্তানের পিতৃ-পরিচয়ের দাবি যৌনকর্মীর

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ ,২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ ,২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পতিতালয়ের যৌনকর্মী মুন্নি বেগমের ৯ বছর বয়সী সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শতাধিক যৌনকর্মী।

মানববন্ধনে দাবি করা হয়, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহবুব রব্বানী এই সন্তানের পিতা। তবে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতেই প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে যৌনকর্মীদের দিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেছেন গোলাম মাহবুব রব্বানী।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দৌলতদিয়া রেলস্টেশন এলাকায় বিকেল ৩টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে স্থানীয় একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের পিতৃ-পরিচয়ের দাবিতে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মাহবুবকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন মুন্নি। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই মামলার শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

যৌনকর্মী মুন্নি বেগম জানান, ‘অভাবের তাড়নায় মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি মায়ের হাত ধরে দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীতে আসেন। ২০০৩ সালে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মাহবুব রব্বানীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর একসময় মুন্নিকে ‘মুখে মুখে’ বিয়ে করেন মাহবুব।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌনপেশা ছেড়ে দেন মুন্নি। তারা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মুন্নি গর্ভধারণ করলে পিতৃ পরিচয় দেবার ভয়ে ঘর ছাড়েন মাহবুব।’

এরপর ২০০৭ সালের ২১ জুলাই মুন্নি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে ছেলে সৌরভের বয়স ৯ বছর। সে স্থানীয় কেকেএস শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।

মাহবুব চলে যাওয়ার পর মুন্নি ফের নেমে পড়েন যৌন ব্যবসায়। এরপর ছেলের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েক দফায় আইনের আশ্রয় গ্রহণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ওই সময় মাহবুব ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় তিনি পিছু হটেন বলে দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেকেএস শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি রেজিস্ট্রারে এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া জন্ম সনদে সৌরভের পিতার নামের জায়গায় মাহবুবের নাম নেই। সেখানে ছানি সেক নামে এক ব্যক্তির নাম রয়েছে।

এর কারণ জানতে চাইলে মুন্নি বেগম বলেন, ‘প্রকৃত পিতার পরিচয় দিতে গোলাম মাহবুব রব্বানীর নাম ব্যবহার করলে সে আমার ছেলেকে মেরে ফেলত। তাই ভয়ে অন্যের নাম বলেছিলাম। এখন আমার পাশে শত শত যৌনকর্মী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দাঁড়িয়েছে। তাই আজ আমি নির্ভয়ে আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবি করছি।’

এ বিষয়ে মুন্নিকে সহযোগিতাকারী বেসরকারি সংস্থা পায়াক্ট বাংলাদেশ পরিচালিত অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা বলেন, ‘মুন্নির সন্তানের পিতৃ পরিচয় পেলে ধীরে ধীরে অন্যান্য যৌনকর্মীদের সন্তানের পিতৃ-পরিচয়ও প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের এখন একটাই দাবি, মুন্নির সন্তান সৌরভ তার পিতৃ পরিচয় পাক।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মাহবুব রব্বানী বলেন, ‘ওই যৌনকর্মীর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তার গর্ভে আমার সন্তান জন্ম নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি আইনের আশ্রয় নিব।’

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী-সন্তান পতিতালয়ে!’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হবার পর ঘটনাটি নিয়ে রাজবাড়ী জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক


এই নিউজটি 4447 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments