রাজবাড়ীতে চুরির অভিযোগে নির্যাতন করে যুবকের চুল কর্তন!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ ,২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ৫:৪০ অপরাহ্ণ ,২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের মাতলাখালী গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে গ্রাম্য শালিসে রেজা শেখ (২৫) নামে এক যুবকে নির্যাতন ও মারপিটের পর চুল কর্তন ও কান ধরে উঠবস করিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন সদস্য। তবে সচেতন মহল ও মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবী করেছে।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাতলাখালী গ্রামের ওহাব মিয়ার বাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে। লাঞ্ছিত যুবক রেজা শেখ একই ইউনিয়নের চরগুয়াদহ গ্রামের বোবা সামাদের পুত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান খলিল, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মুরাদ বিশ্বাস এবং ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আরব আলী মোল্যার নেতৃত্বে কথিত গরু চুরির অভিযোগে রেজা শেখের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসী ওই যুবককে এক নজর দেখার জন্য চারপাশ ঘিরে ভিড় করছে।

যুবক রেজার দাবী, সে এবং তার বন্ধু বাঘুটিয়া গ্রামের ইউছুফ মোল্যার ছেলে সবুজ মোল্যা(২৪) রাত ১০টার দিকে মাতলাখালী গ্রামের ওহাব মিয়ার বাড়ীর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার ছেলে বিল্লাল মোল্যা তাদেরকে জাপটে ধরে গরু চোর বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে তাদেরকে আটক করে মারপিট করাসহ সারারাত বসিয়ে রেখে সকালে ৩জন মেম্বার তার চুল কেটে দেন।

চুল কেটে দেওয়ার নেতৃত্বে থাকা ৩জন ইউপি সদস্য খলিল, মুরাদ ও আরব আলী জানান, অভিযুক্ত রেজা ওহাব মিয়ার তালাকপ্রাপ্তা মেয়ে জলি খাতুনকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার সময় তার ভাই এদেরকে আটক করে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দিলে সবার সিদ্ধান্তে গ্রাম্য শালিসে ওর চুল কেটে ও কান ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম জানান, চুল কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে রাতে এলাকায় গরু চোর ধরা পড়েছে বলে আমাকে জানানো হয়। যার চুল কাটা হয়েছে সে এলাকায় একজন খারাপ মানুষ হিসেবে পরিচিত।

বারুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মান্নান জানান, সকালে চেয়ারম্যানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চুল কাটা অবস্থায় রেজাকে দেখতে পাই।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রঘুনন্দন সিকদার জানান, যদি প্রকৃত পক্ষেই চুরি করে থাকে তাহলে ওই ইউপি সদস্যদের উচিত ছিল তাকে থানায় সোপর্দ করা। চুল কাটার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এতে মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহিদুল ইসলাম,পিপিএম বলেন, আইন কারো হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিন ইউপি সদস্য যে কাজটি করেছেন তাতে আইন লংঘন হয়েছে। থানায় কেউ অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজবাড়ীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডঃ মোঃ উজির আলী শেখ বলেন, চুরির অভিযোগের সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে দোষী সাব্যস্ত করে চুল কেটে দেওয়া মোটেও সঠিক হয়নি। চুল কাটার অধিকার কারো নেই। এতে ফৌজদারী আইনের মামলা হতে পারে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যদি আইনী সহযোগিতা চায় তবে তাকে আইনী সহযোগিতা দেওয়া হবে।

 (সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 1515 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments