ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ ,১২ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ ,১২ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম : পবিত্র আশুরা আজ। আরবি শব্দ আশরুন তথা দশ শব্দটি থেকে আশুরার শব্দের উৎপত্তি। মহররমের দশ তারিখকে সম্মানিত বলে পবিত্র আশুরা বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ এ দিনটিকে কেউ দোয়া মুনাজাত আবার কেউ মাতমের মাধ্যমে পালন করে থাকেন।

এদিনটি আসমানী কিতাবসমূহের অনুসারীদের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে ৬১ হিজরি তথা ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের দশই মহররম। ওই দিনই ইরাকের কুফা নগরীর অদূরে ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাৎ বরণ করেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি ইমাম হোসেন রাদিয়াল্লাহুতাআলা আনহু ও তার পরিবার ও সঙ্গীসহ ৭২ জন।

শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। করুণ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনটিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

আদম আলাইহি সাল্লাম থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত প্রত্যেক নবীর জীবনেই দশই মহররম ঘটেছে কোনো না কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাই শুধু মুসলিম নয়, ইহুদী খ্রিস্টানসহ সব নবীর অনুসারীদের কাছে দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ।

হযরত আদমের বেহেশত ছেড়ে পৃথিবীতে অবতরণের পর তওবা কবুল, হযরত মূসার ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি, হযরত ঈসার জন্ম ও আকাশে তুলে নেয়া এদিনই ঘটে। আইয়ুব নবীর কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি ও ইউনুস নবীর মাছের পেট থেকে মুক্তি, হযরত সোলায়মানের সিংহাসন ফিরে পাওয়া ও ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লামের নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিষ্কৃতির ঘটনাও এদিনেই ঘটে।

এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমণ্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে। নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালন করবেন। দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পুরান ঢাকার হোসেনি দালানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল বের হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গতকাল বায়তুল মোকাররম মসজিদে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে। বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন, বাংলাদেশ আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘ঈমানীয়াত ইনসানিয়াত সুরক্ষা সমাবেশ ও বরকতময় সালাতুস সালাম মাহফিল’-এর আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবেন। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

শুধু শোক পালন নয়, সর্বোচ্চ ত্যাগের শিক্ষার উদাহরণ হতে পারে এই দিনটি, এমনটাই মনে করেন ইসলামী বিশ্লেষকরা। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদেরকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা যোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।পবিত্র আশুরার মহান এ শিক্ষা আমাদের সকলের জীবনে প্রতিফলিত হোক। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ বা বিভেদের কোন স্থান নেই।

পবিত্র আশুরার এই দিনে সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন তিনি।

দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্রতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ¦ল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকলের প্রতি আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বানও জানান তিনি।


এই নিউজটি 459 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]