আমার রাজনীতির স্বচ্ছতা আছে, উনারা অস্বচ্ছ রাজনীতি করেন : আকবর আলী মর্জি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ ,১৪ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ ,১৪ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আকবর আলী মর্জি বলেছেন, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ২০১১ সালের ২০শে ডিসেম্বর আমাকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের চেয়ারে বসিয়ে ছিল। আমি তার দেয়া সেই দায়িত্ব পবিত্র রাখার চেষ্টা করেছি। এই ৫বছরে আমি আমার দায়িত্ব স্বচ্ছতার সাথে পালন করেছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে নমিনেশন দেয় তাহলে আমি আসন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেকের বিরোধিতার পরেও আমি রাজবাড়ী জেলা থেকে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির একমাত্র সদস্য হয়েছি। আমার রাজনৈতিক জীবনের ২৮/২৯ বছরে কারো কাছ থেকে বিনিময় নিয়ে কাজ করিনি। তা চাকুরীর ক্ষেত্রে হোক বা কাজের ক্ষেত্রে হোক। যারা বড় বড় কথা বলে তারা মসজিদ মাদ্রাসার টাকা মেরে খায়। আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসি তখন কাজী কেরামত, ফকীর জব্বার, গনেশ নারায়ন, জিল্লুল হাকিম, নাজিবর, আমজাদ এদের কাউকেই পাইনি। ওই সময়ে কাজী ইরাদত আমার পা ধরে বলেছিল আমার বড় ভাই কাজী কেরামতকে দলের সদস্য করেন। জিল্লুল হাকিমকেও আমি আওয়ামীলীগে এনেছি। জিল্লুল হাকিমকে যখন রাজবাড়ীতে ওয়াজেদ চৌধুরীর বাসায় নিয়ে আসলাম তিনি (ওয়াজেদ চৌধুরী) তখন আমাকে বললেন রক্ষী বাহিনীর লোকজনকে নিয়ে এসেছো। এরা একদিন তোমার বুকেই গুলি চালাবে। আমি তখন বাইরে এসে আপার কাছে (শেখ হাসিনা) ফোন করে বললাম আপনি ওয়াজেদ চৌধুরীকে বলেন মর্জি যা বলে সেটা মেনে নিতে। এই আমি রাজনীতিতে কম ত্যাগ তিতিক্ষা করি নাই। আপনাদের (সাংবাদিকদের) কাছে আমার একটাই আবেদন আপনারা মিথ্যা লিখবেন না। সত্যি ঘটনায় আমাকেও ছুলে ফেলান, আমার কোন আপত্তি থাকবে না।

আকবর আলী মর্জি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, জাকির সরদার একজন রাজাকারের বাচ্চা। সে বিএনপির লোক। গত ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনের সময় সে বঙ্গবন্ধুর ছবি পুড়িয়েছে। শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধুর ছবি পোড়ানোর আগে সে ওই ছবিতে প্রসাব করেছে। সেই জাকিরকে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার। এই নির্বাচনে আমার কুশপুত্তিকাও দাহ করা হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার কুশপুত্তিকা দাহ করা হয়। এর চেয়ে ঘৃন্য কাজ আর কি আছে। আমি অসহায়। তাই এর প্রতিবাদ করতে পারিনি।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা পরিষদের সরকারী অর্থে পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন প্রশাসক আলহাজ্ব আকবর আলী মর্জি।

এ সময় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মোঃ জহুরুল হক, সাবেক সভাপতি আবু মুসা বিশ্বাস, সহ-সভাপতি এম.মনিরুজ্জামান, সহ-সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ ইউসুফ মিয়া, সহ-সভাপতি আসহাবুল ইয়ামিন রয়েন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাবুর রহমান ও সাপ্তাহিক অনুসন্ধান সম্পাদক বাবু মল্লিকসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আকবর আলী মর্জি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এমপি, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক, রাজবাড়ীর সাবেক ২ জন জেলা প্রশাসক, ২ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের নাম ধরে বিষেদগার ও অশ্লীল মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভা চলাকালে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি’র) একজন ওয়াচার সেখানে উপস্থিত থাকায় তিনি তার পরিচয় জানার পর বাইরে পাঠিয়ে দেন।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 3215 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from রাজনীতি