রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মর্জির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ ,১৬ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ ,২ নভেম্বর, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টাররাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আকবর আলী মর্জির বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার যুদ্ধকালীন কমান্ডার, স্বাধীনতা উত্তর রাজবাড়ী জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজবাড়ী মিলিশিয়া ক্যাম্পের অধিনায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন উদ্দিন বতু আকবর আলী মর্জির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।

এসময়, “আমার রাজনীতির স্বচ্ছতা আছে, উনারা অস্বচ্ছ রাজনীতি করেন” শিরোনামে গত ১৪ অক্টোবর রাজবাড়ীর দৈনিক মাতৃকন্ঠে প্রকাশিত সংবাদে আকবর আলী মর্জির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন উদ্দিন বতু বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকবর আলী মর্জির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে যা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে তিনি জরুরী ভিত্তিতে মর্জিসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্তেরও দাবী জানান।

মহসীন উদ্দিন বতু আরো বলেন, আকবর আলী মর্জি সাংবাদিকদের কাছে দলের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যাচার করেছে। সে কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ভারতেও যায়নি। সে কোন সেক্টরে কার সাথে কবে কোথায় যুদ্ধ করেছে তারও কোন প্রমাণ নেই। যুদ্ধকালে সে চুরি, ডাকাতি, লুটপাটের সাথে জড়িত ছিল। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে একদিন রাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা বড় নৌকাযোগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত কালিয়া রতনদিয়া গ্রাম দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলো পাক বাহিনী, রাজাকার ও বিহারীদের লুটতরাজ, হত্যা ও ধর্ষন-নির্যাতনে টিকতে না পেরে তখন সহায় সম্বল ফেলে রেখে ভারতে চলে যায়। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা দল টিন খোলার শব্দ পেয়ে নৌকা ভিড়িয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন একদল লোক লুটপাট করছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তখন তাদের দলনেতা আকবর আলী মর্জি ও অন্যান্যদের মুক্তিযোদ্ধারা গণধোলাই দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই লুটপাটের অপরাধে মুক্তিযোদ্ধাগণ মর্জিকে মেরে ফেলতে উদ্যত হলে সে অনেক অনুনয়-বিনয় করে ক্ষমা চেয়ে এবং তাদের দেয়া যেকোন কাজ করার অঙ্গীকার করে কোনমতে প্রাণে রক্ষা পায়। কালিয়া রতনদিয়ার যে বাড়ীতে মর্জিরা লুটপাট করছিল, সেই বাড়ীর মালিক ছিলেন তারক ঘোষ। তিনি খানখানাপুর সুরাজ মোহিনী হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এ ব্যাপারে তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বসন্তপুর রেলগেটে প্রায়ই আটকে ডাকাতি হতো। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা(মৃত) বজলুর, গনেশ নারায়ন চৌধুরীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়টি আমাকে জানালে সেখানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু রাতে যখন ফোর্স নিয়ে রওনা দেব তখন জীপ গাড়ী স্টার্ট না নেওয়ায় াভিযান হয় না। পরবর্তীতে যেভাবেই হোক বিষয়টি জানতে পেরে আকবর আলী মর্জি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। মর্জির গায়ে ক্ষত বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সে আহত হলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেত। কিন্তু গুলির চিহ্নটি নিয়ে জনমনে ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মহসীন উদ্দিন বতু আরো বলেন, রাজবাড়ীর কোন মানুষ কি জানে ও (মর্জি) কোথায় লেখাপড়া করেছে? সে সময়ের (স্বাধীনতা পূর্বকালে) কোন আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে জড়িত ছিল? যুদ্ধকালে ওর বয়স কতো ছিল? জব্বার ফকীর তো তখন ডিগ্রীর ছাত্র ছিল। কিন্তু মর্জি কোথায় ছিল?

স্বাধীনতার অনেক পরে আকবর আলী মর্জি যখন রাজবাড়ীতে আসেন তখন এডঃ আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী গোয়ালন্দ মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কাজী ইরাদত আলী সহ-সভাপতি এবং এডঃ সৈয়দ রফিকুছ সালেহীন সেক্রেটারী ছিলেন। তখন আকবর আলী মর্জি ঢাকায় যুবলীগের রাজনীতি করতেন। সে সময়ে কাজী ইরাদত আলী কেন তার বড় ভাই কাজী কেরামত আলীকে দলে নেয়ার জন্য আকবর আলী মর্জির পায়ে ধরতে যাবে। যা সবৈব মিথ্যা এবং সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না। কাজী কেরামত আলীকে তো স্বয়ং দলের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দলে নিয়েছেন। তরপরই কাজী কেরামত আলী দলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং অদ্যাবদি তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

অপরদিকে জিল্লুল হাকিম রাজবাড়ী কলেজে লেখাপড়া করেছে। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পাংশা থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি যুদ্ধকালীন কমান্ডার। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তিনি পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জিল্লুল হাকিম একবারেই জেলা আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়নি। তিনি তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে আজকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসীন। পক্ষাপন্তরে আকবর আলী মর্জির জেলা আওয়ামী লীগে কোন অবস্থানই নাই। বর্তমানে তিনি সরকারী বিরোধী রাজনৈতিক মতের ব্যক্তিবর্গের সাথে সু-সম্পর্ক রেখে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতৃবৃন্দ বিরুদ্ধে অসংলগ্ন, অসত্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রলাপ করছেন। তার(আকবর আলী মর্জির) এ সকল বিষয়ে অচিরেই আমি সাংবাদিকদের সাথে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করবো।

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ আশিক


এই নিউজটি 5625 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments