অনলাইন পত্রিকার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে : প্রধানমন্ত্রী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ ,২২ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ ,২২ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা ও গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে দিনকে দিন কাগজের পত্রিকার সংখ্যা ও গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘এখন অনলাইন সংবাদপত্রের সংখ্যা বেশি, কাগজের সংখ্যা বা গুরুত্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় প্রেসক্লাব-বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যারা এখনো পুরোনো যুগের মানুষ সকাল বেলা উঠে পত্রিকাটা হাতে না পেলে মনটা খারাপ লাগে। ১ কাপ চা আর একটা পত্রিকা, আমাদের যাদের অভ্যাস আছে, তাদের জন্য এটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, কত প্রয়োজন! কিন্তু আজকের ছেলেমেয়েরা ল্যাপটপ নিয়ে বসে, ওখানেই বসে দেখে, ওখানে বসেই পড়ে। এটা হলো বাস্তবতা।’

প্রযুক্তির যুগের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাই হোক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, প্রযুক্তিতে আসতে হবে, বিশ্বের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’

গণমাধ্যমকে দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘কথাই বলে সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ।’

বাংলাদেশের এখন সাংবাদিকতার যথেষ্ট স্বাধীনতা আছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,‘স্বাধীনতা যদি নাই থাকবে তবে কথাগুলো বলার স্বাধীনতা কিভাবে পেল, স্বাধীনতা নেই এ কথাই বা বলতে পারছেন কিভাবে?’

তিনি বলেন, ‘দেশে ৭৫০টি দৈনিক পত্রিকা আছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিওতে যে টকশোগুলো হয়, কেউ কি বলবে কথা বলার স্বাধীনতা নেই, মতামত দেয়ার স্বাধীনতা নেই।’

‘দেশের সম্পদ বিক্রি করে, মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি শেখ হাসিনা করে না’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দেশের সম্পদ, কোন এক বড় দেশ তারা সেই সম্পদ তুলবে, আরেক দেশ বিক্রি করবে। সম্পদের মালিক বাংলাদেশ, বেচবে একজন কিনবে আরেকজন। আমি তাতে রাজি হইনি। ওটাই ছিলো আমার অপরাধ, সে জন্য ক্ষমতায় আসতে পারিনি। অথচ ভোট আমরাই বেশি পেয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমার কি অপরাধ ছিলো। দেশে কি তখন উন্নয়ন করিনি, উন্নতি হয়েছিলো। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিলো, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম, বড় বড় রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পুল তৈরি করেছিলাম। দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলাম। তারপরও ক্ষমতায় আসতে পারলাম না।

তিনি বলেন, ‘এদেশের সম্পদ, এদেশের মানুষের কাজে আগে লাগবে। মানুষের জন্য আগে ব্যবহার হবে তারপরই না বেচা।’

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল গঠনে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যা করার সেটাতো করবোই আপনাদেরও উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক ব্যক্তি ও তাদের গঠিত দলগুলোর সমালোচনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিদেশিরা জানতে চান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা জিজ্ঞেস করে আমাদের উন্নয়নের ম্যাজিক কি। আমি বলি ম্যাজিক কিছু না, এটা হলো আমরা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রেসক্লাবে এসেই জাতীয় প্রেসক্লাব-বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছুলে প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ‘বড় আশা করে এসেছি গো কাছে ডেকে লও, ফেরাও না জননী’ এই অভ্যর্থনা সঙ্গীত এবং ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ এই দেশাত্মবোধক গানটি গেয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।

১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রেসক্লাব’ নাম নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭২ সালের ৫ মার্চ এর নাম পরিবর্তন করে জাতীয় প্রেসক্লাব রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে এর নাম জাতীয় প্রেসক্লাব রাখা হয়।

বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সটি ৩১ তলা বিশিষ্ট একটি আয়তাকার ভবন হবে। রিখটার স্কেল ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প সহ্য করতে পারবে এর স্টিল স্ট্রাকচার।

ভবনটির প্রতি তলার আয়তন হবে ১৯ হাজার ৮০০ বর্গ ফুট।

প্রথম ১০ তলা সম্পূর্ণভাবে প্রেসক্লাব এবং মিটিং কনফারেন্সে ভাড়া দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। ১১ তলা থেকে ২৮ তলা বিভিন্ন সংবাদপত্র, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, টেলিভিশন, রেডিওসহ গণমাধ্যমকে ভাড়া দেয়া হবে।


এই নিউজটি 377 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from জাতীয়