বাড়ির আঙিনায় চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ ,২২ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ ,২২ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নে নয়নসুখ উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে বাড়ির আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে। এ বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বাড়ির আঙিনায় পাঠদানে নানা সমস্যার পাশাপাশি অভিভাবকরাও থাকেন উদ্বিগ্ন।

জানা যায়, কুরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে জামাল খাঁর বাড়ি ও তার বাড়িতে অবস্থিত স্কুল ঘরটি। এর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলে বাড়ির মালিক অন্যত্র বাড়ি করলেও স্কুল ঘরটি তৈরি করে দিতে পারেননি জামাল খাঁ। তাই স্কুলটির শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম তার বাড়ির আঙিনাতেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম তার বসতবাড়ির ঘরের সামনে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। চটের উপর বসে শিক্ষার্থীরা অমনযোগী ভাবে এদিকে ওদিকে তাকাচ্ছে। কারণ সঙ্গেই রাস্তা। কে যাচ্ছে বা কী যাচ্ছে এ বিষয়ে তাদের অনেক কৌতুহল। এছাড়া বৃষ্টি আসলে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে।

অভিভাবক মো. মান্নান শেখ, ছোরাপ আলী, আসমা বেগম ও মালেকা বেগম জানান, দেড়-দুই মাস হয়েছে স্কুল ঘরটি নদীতে ভেঙে গেছে। কিন্তু যার বাড়িতে স্কুলটি ছিল তিনিও অসহায়। তিনি অন্যত্র বাড়ি করলেও স্কুলের জায়গা এখনো ঠিক করতে পারেননি। তবে তিনি বলছেন গোপাল বাড়ি মসজিদের কাছে ঘর তুলে দেবেন। কোনো জায়গা না পেয়ে আপার (শিক্ষিকা) বাড়িতে আমাদের বাচ্চারা পড়াশুনা করছে।

জামাল খাঁ জানান, নদীতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছি। ভাল জায়গা পাচ্ছি না, তবে আমি চেষ্টা করছি এ মাসের মধ্যে স্কুল ঘরটি তৈরি করে দেয়ার।

শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম জানান, স্কুলটি নদীতে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটবে বলে আমার আঙিনায় ক্লাস নিচ্ছি। নিয়মানুযায়ী যার বাড়িতে স্কুল থাকে তিনি নতুন করে তৈরি করে দেবেন। এ জন্যই দেরি হচ্ছে। তবে এ মাসের মধ্যেই স্কুল ঘরটি তুলে দেয়ার কথা রয়েছে। তাছাড়া স্কুল ঘর তৈরির জন্য ১৫ হাজার টাকা আছে জামাল খাঁর কাছে, সে টাকা দিলে আমরাও ঘর তুলে নিতে পারি।

রাজবাড়ী দরিদ্র মানবকল্যাণ সংস্থ্যার পোগ্রাম অফিসার সেলিম আহম্মেদ জানান, বরাট ইউনিয়নের জামাল খাঁর বাড়ির নয়নসুখ উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালটি নদীতে ভেঙে যাবার পর থেকেই স্কুলটি অন্যত্র তৈরির জন্য জামাল খাঁকে বলা হচ্ছে। এজন্য তাকে ১৫ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আর্থিকভাবে একটু দুর্বল ও স্কুল ঘর তৈরির জায়গার ব্যবস্থা করতে না পারায় এখনো স্কুল ঘরটি তৈরি হয়নি।

তিনি আরো বলেন, স্কুল ঘরটি না থাকায় পড়াশুনার কথা চিন্তা করে সাময়িক সময়ের জন্য স্কুলের শিক্ষিকা সুফিয়া বেগমের বাড়িতে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে কিছু তো পাঠদানে কিছু সমস্যা হয় কিন্তু কী করবো। যতদ্রুত সম্ভব স্কুল ঘরটি তৈরি করে পাঠদান শতভাগ নিশ্চিত করবো।

(সূত্র- জাগোনিউজ২৪.কম)


এই নিউজটি 743 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]