দৌলতদিয়া পতিতালয়ে অবৈধভাবে চলছে টিকিটের মাধ্যমে চাঁদা আদায়

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ ,২৩ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ৯:১৯ অপরাহ্ণ ,২৩ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লী। এখানে অন্তত দুই হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এ পল্লীতে আগতদের কাছ থেকে তথাকথিত পাহারাদার বাহিনী প্রকাশ্যে অবৈধ টিকিটের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই চাঁদাবাজি হলেও বিষয়টি দেখার কেউ নেই।

অনুসন্ধানে জানাযায়, দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী নিয়ন্ত্রণ করতে স্থানীয় কথিত দুই কমান্ডারের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছে ৬৪ সদস্যের বিশেষ বাহিনী। পল্লীতে আসা মানুষের কাছ থেকে টিকিটের মাধ্যমে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা টাকা চাঁদা আদায় করে এই বাহিনীর সদস্যরা। দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে প্রবেশ করতে ৫টি গেট রয়েছে। এই সব গেটে বসে থাকে এ বাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকেই টিকিটের মাধ্যমে তোলা হয় টাকা। অনেকে আবার ভিতরে ঘুরে ঘুরেও টাকা তোলে। ৬৪জন পাহারাদার দলে দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন রংয়ের টিকিট দিয়ে জনপ্রতি ৪০টাকা করে আদায় করে। কেউ পল্লীর ভিতর থেকে বাইরে আসলে তাকে আবার টিকিট নিয়ে পল্লীতে প্রবেশ করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের হিসেবে প্রতিদিন কমপক্ষে সাড়ে ৪ থেকে ৫হাজার টিকিট বিক্রি হয়। কোন কোন বিশেষ সময় এর দ্বিগুন টিকিটও বিক্রি হয়ে থাকে। সরকারী নিয়ম-নীতি না থাকলেও এভাবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে এ বাহিনী।

পতিতাপল্লীতে যেকোন ঘটনার বিচারও তাদের হাতে। সবকিছুই তাদের ইচ্ছামতো চলে। অপ্রাপ্ত বয়সী কিশোরীদের যৌন পেশায় লিপ্ত করানো নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তা স্বাভাবিক ব্যাপার। এর জন্য এই পাহারাদার বাহিনীকে প্রতিজন কিশোরীর ১ থেকে ১০হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। কিশোরী-তরুণী ক্রয় বিক্রয় বা স্বেচ্ছায় যৌন পেশায় নাম লেখাতে এবং এক বাড়ী থেকে অন্য বাড়ী গেলেও টাকা দিতে হয় এদের। পল্লীতে আগত কোন মানুষ যদি এই অবৈধ পাহারাদার দলের কথা না মানে তাহলে তাকে নির্যাতন করা হয়। তাই ভয়ে বাধ্য হয়ে এই পাহারাদার গ্রুপের কথামত চলতে হয় সবাইকে। যৌনপল্লীতে প্রবেশ করার প্রধান গেটে এদের একটি অফিস আছে। সেখান থেকেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখান থেকে অবৈধ উপায়ে আয় করা কোটি কোটি টাকার একটি বড় অংশ চলে যায় প্রভাবশালীদের পকেটে। এছাড়া মাদক ব্যবসা, জুয়া, সারাদেশ থেকে পাচার করে আনা কিশোরী-তরুণীদের দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় লিপ্ত করাসহ সকল অপরাধমূলক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এ বাহিনী।

এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আঃ জলিল ফকীর বলেন, দৌলতদিয়া পতিতালয়ে অন্যায় চাঁদাবাজি, জুয়ার আড্ডা এবং মাদক বিক্রির স্পট বন্ধের জন্য তিনি র‌্যাবের দপ্তরে আবেদন করার পর প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে লেগে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি পতিতালয়ের অভ্যন্তরের সকল প্রকার অবৈধ কারবার বন্ধের দাবী জানান।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ওসি মীর্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে পাহারাদার হিসেবে কিছু লোক কাজ করে। তবে তারা টিকিট দিয়ে কোন টাকা আদায় করে নাকি তা আমার জানা নেই। অপ্রাপ্ত বয়সী যৌনকর্মীর বা জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির কোন অভিযোগ পেলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

(সূত্র- দৈনিক মাতৃকন্ঠ)


এই নিউজটি 1504 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]