গোয়ালন্দের দুই লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিয়ে তামাশা!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ ,২৭ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ৯:১৬ অপরাহ্ণ ,২৭ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক : কিভাবে চলছে ৫০ শয্যার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স? প্রশাসন কি গোয়ালন্দ উপজেলা বাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে প্রহসন করছে? এমন প্রশ্ন উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র হাসপাতাল গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন মানুষের মুখে মুখে।

উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের নলডুবি থেকে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরে এসেছিলেন আরমান শেখ (৪৮)। কাঙ্খিত চিকিৎসকের দেখা পেলেন না তিনি। আরমানের মা গোয়ালন্দনিউজকে জানালেন, কিছুদিন আগে এখানে বেশ কয়েকজন ভালো ডাক্তার ছিলেন। তারা এখন কেউ নেই। এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তার মতো এমন হতাশ অনেকেই।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার আছেন মাত্র ৩ জন। ৩ জন মিলেই সামাল দিচ্ছেন আউটডোর, জরুরী বিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ। আর বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র ২ জন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রফিকুল ইসলাম নিয়মিত এলেও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন সরকার আসেন সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন।

চিকিৎসক না থাকায় আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টরা। তাদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা মিললেও চিকিৎসকের অভাবে মিলছে না পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা। আউটডোরে চিকিৎসক এর পরিবর্তে মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট দেখে অনেকে রোগী না দেখিয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। রোগী ও রোগীর স্বজনদের ছুটতে হচ্ছে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি। দুর্ভোগের সাথে নদী ভাঙন এলাকার দরিদ্র এ সকল মানুষের খরচ হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের স্বদিচ্ছায় হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত হয়ে ২০১৩ সালের ১ মে থেকে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এখানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৪টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছে মাত্র পাঁচজন।

এদিকে এই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে ২০১১ সালের ২৪ মার্চ যোগদান করেন শহিদুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অস্ত্রোপচার শুরু করেন। কিন্তু একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর অন্যত্র বদলি হয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই হাসপাতালে অস্ত্রোপাচার করা বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালের আধুনিক অপারেশন থিয়েটারটিা মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে ব্যবহার না হয়ে।

এ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ নার্স বলেন, লোকবল সংকটে কোনো অন্তঃসত্ত্বার অস্ত্রোপাচার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের রোগী হাসপাতালে এলে তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়।

সম্প্রতি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল হান্নান নিয়মিত আসেন না। তিনি পাঁচ দিন হাসপাতালে এসে মাত্র একদিন তাঁকে পেয়েছেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদ কাজী কেরামত আলী স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজবাড়ী থেকে আসেন তিনি। সপ্তাহের কয়েক দিন তিনি হাসপাতালে না এসে রাজবাড়ী থেকেই মাঠ পরিদর্শনে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, গত এক বছর ধরেই ডেপুটেশন ও বদলী জনিত কারনে হাসপাতালে ধীরে ধীরে চিকিৎসক সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করে। সে সময় থেকেই উর্ধ্বতন মহলকে এ ব্যাপারে অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পক্ষান্তরে গত আগস্ট থেকে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, বাস্তবে ভেঙ্গে পড়েছে গোয়ালন্দ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা মনে করছেন প্রশাসন তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তামাশা করছে। মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কি করে একটি হাসপাতাল পরিচালিত হতে পারে তা এখন সচেতন মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান জানান, হাসপাতালে যে পাঁচজন চিকিৎসক আছেন, তাঁদের দিয়ে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালানো খুবই কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই বহিঃবিভাগে আগত রোগীদের মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ড দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তিনি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উচ্চ পর্যায়ে তদবির করছেন বলে তিনি জানান।

 (সূত্র- গোয়ালন্দ নিউজ.কম)


এই নিউজটি 756 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments