ব্যস্ততা কি সত্যিই অসুস্থতা, নাকি জীবনধারার আবদ্ধতা ? – জেনিফার হোসেন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ ,২৯ অক্টোবর, ২০১৬ | আপডেট: ১০:১৯ অপরাহ্ণ ,২৯ অক্টোবর, ২০১৬
পিকচার

আমি ব্যস্ত তার মানে কি আমি অসুস্থ?
কিছু দিন আগে একটি আর্টিকেলে পড়লাম “মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সমিতি” ‘ব্যস্ততাকে’ একধরনের অসুস্থতা মনে করেন। দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যস্ততাকে তারা স্ট্রেসের অন্যতম কারন মনে করেন। খেয়াল করে দেখবেন আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যাদের যখনই জিজ্ঞাসা করা হয় কেমন আছেন তখনি উত্তর দেন “ভাল নেই, খুব ব্যস্ত যাচ্ছে”। আমাদের জীবনে ব্যস্ততা থাকবেই। আমরা যখন ব্যস্ততা কে সঠিক মাত্রায় সব কিছুর সাথে মানিয়ে চলবো সেটাকেই মানসিকভাবে সুস্থ থাকা বলে।

সব কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে চলা চমৎকার একটি গুন। পৃথিবীর কোন শহরে বেশি সুখী মানুষ বাস করে এই বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু জরিপে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ার কিছু শহর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে। ছোটবেলা থেকেই শুনেছি অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকরা নাকি খুব আরাম প্রিয়(লেইড ব্যাক)। আমিও দেখি তাদের ছুটির দিন ক্যাম্পার ভ্যান নিয়ে ক্যাম্পেইন, সমুদ্র সার্ফিং, রোড ট্রিপ,বনভোজন অথবা খামার দর্শনে যেতে। যেই দেশে নিরাপত্তার পাশাপাশি দশহাজার ছয়শ পঁচাশী সংখক সমুদ্র সৈকত, সেখানকার মানুষ ঘরে বসে না থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ার দ্যা গ্রেট ওশান রোড, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, হ্যামিলটন আইল্যান্ড যেন পৃথিবীতেই স্বর্গ। তাঁরা উপার্জন করেই বিনোদনের ব্যবস্তা করেন। এদের মধ্যে অনেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করে, ঘরের কাজ করে, বেবি সিটিং করে, নিজেরাই রান্না করে, মধ্যরাতের প্রমোদসম্মেলনেও হাজির থেকে ডেইলি লাইফ মেইনটেইন করেন এবং নিজেদের সুখী মনে করেন ।

মানসিক চাপ মুক্ত মানেই কিন্তু বিশ্রামে থাকা না। বিশ্রামে থাকলে আবার আরেক ঝামেলা। কথায় আছে “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কর্মশালা”। আমাদের মত এশিয়ান দেশে যেমন অনেক সাহায্যকারী আছেন (ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্য, কাজের লোক, ড্রাইভার, দাওয়ান) সেটা সব দেশে সম্ভব না। যদিও আমাদের দেশে আমি অনেক ব্যক্তিকেই চিনি, যারা সব রকম সাহায্য ছাড়াই নিজেদের সব কাজ করেন এবং ব্যস্ততার সঙ্গে সামাজিকতা, আন্তরিকতা বজায় রাখতে পারেন। এর মধ্যে কিছু মানুষ এত কিছু সামলাতে গিয়ে তাল হারিয়ে ফেলেন। হয়ে যান খিটখিটে মেজাজের। কেউ অফিসে কলিগদের উপর রাগ ঝারেন, কেউবা ঘরে এসে প্রিয়জনের উপর মেজাজ দেখান। বদমেজাজের কারনে নিজেও খুব একটা শান্তিতে নেই তারা।

তার মানে আমরা কঠিন ব্যস্ত থেকেও নিজেদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব কিছুকে ব্যালান্স করে সফল হতে পারি পারিবারিক এবং কর্মজীবনে। “স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট” সবক্ষেত্রেই অপরিহার্য। তাহলে ব্যস্ততা অথবা মানসিক চাপের অভিযোগ না দিয়ে চলুন আমরা চেষ্টা করি এই দুশ্চিন্তাকে দুর করার। গুগলে সার্চ দেই “হাউ টু মেনেজ স্ট্রেস ইন বিজি লাইফ”।

লেখক : জেনিফার হোসেন
কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া
২৮/১০/২০১৬।


এই নিউজটি 892 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments