জেলা পরিষদ নির্বাচনে মর্জিকে দলীয় মনোনয়ন না দিতে আ’লীগ সভাপতির কাছে অভিযোগ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ ,১৭ নভেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ৮:০৫ অপরাহ্ণ ,১৭ নভেম্বর, ২০১৬
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার॥ আসন্ন রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আকবর আলী মর্জিকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনের ৫৫২জন জনপ্রতিনিধি ভোটার।

গত ১৫ই নভেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ, কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম ও পাংশা পৌরসভার মেয়র আব্দুল আল মাসুদ বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দলের সভাপতি বরাবর লিখিত দরখাস্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপের হাতে এবং এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে হস্তান্তর করেন।

উক্ত দরখাস্তে আকবর আলী মর্জির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে রাজবাড়ী জেলার ৪জন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ২জন পৌরসভা মেয়র, ২৪জন পৌর কাউন্সিলর, ৪০জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং ৪৭৭জন ইউপি সদস্য ও মহিলা সদস্য এবং উপজেলার ভাইচ চেয়ারম্যানসহ মোট ৫৫২জন স্বাক্ষর করেছেন। উল্লেখ্য, আসন্ন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬০০জন।

দরখাস্তে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আকবর আলী মর্জির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ, দুর্নীতি, দল বিরোধী কার্যক্রম, দলীয় নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বিষেদগার-গালিগালাজ করা, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার কর্মকান্ডের বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজবাড়ী জেলা পরিষদে আকবর আলী মর্জিকে প্রশাসক নিয়োগ করায় আমরা আশা করেছিলাম যে, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অধীনে সকল উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সমূহে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আকবর আলী মর্জির দুর্ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের দ্বারা তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। আমরা আশাহত হই। প্রথমেই তিনি সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ডেকে প্রকল্প জমা দিতে বলেন, আমরা অনেকেই প্রকল্প জমা দেই কিন্তু সেই প্রকল্প অদ্যাবধি আমরা পাই নাই। বিভিন্ন সময় খোঁজ-খবর নিতে গেলে তিনি আমাদের সাথে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি বাজে ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ছাড়াও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত টাকা সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলা ভিত্তিক বন্টন না করে উপজেলা সমূহের অংশের টাকা নিজেই খরচের জন্য রেখে দেন। জেলা পরিষদের অর্থে বিধি বহির্ভূতভাবে তিনি নিজ ও তার স্ত্রীর নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি বছরই এডিপি বরাদ্দের একটি বৃহৎ অংশ ব্যয় করেন। তিনি পরিষদের সভায় আলোচনা না করে এবং পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যয় করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বেআইনীভাবে ব্যয় করেন। উন্নয়ন কর্মকান্ডের টেন্ডারে লটারীর কথা বলে নিজের আত্মীয়-স্বজনের নামে অবৈধভাবে প্রহসনমূলক লটারীর মাধ্যমে কাজ প্রদান করেন। সেই সমস্ত কাজ সম্পূর্ণভাবে না করলেও তিনি বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু লটারীর মাধ্যমে কাজ পেয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার পরও শুধুমাত্র রাজনেতিক কারণে অনেক ঠিকাদারের বিল প্রদান করেন নাই।

এরমধ্যে পাংশা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একটি মাদ্রাসার কাজ সম্পূর্ণভাবে সম্পাদন করার পরও অদ্যাবধি তার বিল পরিশোধ করা হয় নাই। বিভিন্ন দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে ওয়াটার ফিল ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে বহু অর্থ বেহাত করা হয়। তার কর্মকান্ডে রাজবাড়ী জেলার সকলস্তরের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে ও সাংবাদিক সম্মেলন করে আকবর আলী মর্জির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন।

এছাড়া রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি’র বিরুদ্ধে আকবর আলী মর্জি জমি দখলের একটি মামলা দায়ের করেন, যা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। এছাড়াও তিনি এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে একুশে টিভির সাংবাদিককে দিয়ে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি করান।

লিখিত দরখাস্তে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আকবর আলী মর্জিকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য দাবী জানানো হয়।

উল্লেখ্য, জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর ৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩টি পৌরসভা ও ৪২টি ইউনিয়ন পরিষদ মিলিয়ে মোট ভোটার ৬০০জন। এরমধ্যে রাজবাড়ী-১ সংসদীয় এলাকায় ২টি উপজেলা পরিষদ, ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মোট ভোটার ২৬৬জন এবং রাজবাড়ী-২ সংসদীয় এলাকায় ৩টি উপজেলা, ১টি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মোট ভোটার ৩৩৪জন। রাজবাড়ী-২ সংসদীয় এলাকায় ৬৮টি ভোট বেশী।


এই নিউজটি 1385 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments