অপহরণের একমাস পর সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ ,২১ নভেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ ,২২ নভেম্বর, ২০১৬
পিকচার

আশিকুর রহমান॥ রাজবাড়ীতে অপহরণের একমাস পর গোপাল চন্দ্র সাহা (৪৮) নামের এক সাবেক ইউপি সদস্যের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা সদরের সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২০ অক্টোবর তিনি অপহরণ হন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী কৃষ্ণা রানী সাহা।

গোপাল চন্দ্র সাহা রামনগর গ্রামের মৃত মাখন লাল সাহার ছেলে। সে সুলতানপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

গোপাল চন্দ্রের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী সাহা জানান, তার স্বামী গত ২০ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি থেকে স্থানীয় সদরদী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর ওই দিন সে বাড়িতে না ফিরলে বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কৃষ্ণা রানী রামনগর বৈদ্দর দোকানের সামনের কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ওই স্থান থেকে তার স্বামীকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তির সাথে মোটর সাইকেলে উঠে যেতে দেখাগেছে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজের ১৮দিন পর গত ৮ নভেম্বর রাত পৌঁনে ২টার দিকে তার স্বামীর ও অজ্ঞাত আরও একটি মোবাইল থেকে ফোন করে জানায় যে তার স্বামী তাদের (অজ্ঞাতদের) হেফাজতে রয়েছে। ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং মুক্তিপন না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। এ ঘটনার পর গত ৯ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অজ্ঞাত আরও একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয় এই বিকাশ নম্বরে ৩ লক্ষ টাকা পাঠাও। এরপর থেকে অপহৃত গোপাল চন্দ্র সাহার মোবাইল নম্বরটি এবং অজ্ঞাত ওই মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর কৃষ্ণা রানী সাহা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

কৃষ্ণা রানী সাহা আরও জানান, সোমবার (২১ নভেম্বর) তাদের প্রতিবেশী সুপ্রিয়া সাহা বাড়ির পাশের জঙ্গলে রান্না করার খড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি মরদেহ দেখে তাকে খবর দেন। এরপর তিনি জঙ্গলে গিয়ে তার তার স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে রাজবাড়ী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম (পিপিএম), সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আছাদুজ্জামান ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল বাশার মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার সালমা বেগম নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দ্রুত অপরাধীর গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সালমা বেগম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। লাশটি প্রায় অর্ধেকের বেশি পঁচে যাওয়ায় কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা ধারণা করা সম্ভব হচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্র্ট হাতে পাবার পর বিস্তারিত জানা যাবে।


এই নিউজটি 1956 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments