,

সর্বশেষ :
শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে কলাগাছের স্মৃতির মিনার রাজবাড়ীতে বই মেলা শুরু রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ট্রাষ্টি বোর্ডকে আরও ৮ লাখ টাকা দিলেন ডা. আবুল হোসেন বালিয়াকান্দিতে শিশু ছাত্রীদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার রাজবাড়ীতে ১৫ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক রাজবাড়ীতে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজমিস্ত্রী আটক এক যুগ ধরে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করে আসছেন রাজবাড়ীর পচা কর্মকার! সেদিন রোদ্দুর হয়নি বলেই আজ বৃষ্টি হলো… এহসান কলিন্স শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনসভায় ফয়সাল সরদারের নেতৃত্বে লক্ষীকোলের ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ

স্মার্ট অটোওয়ালা কুদ্দুস!

News

বিশেষ প্রতিবেদক॥ রাজবাড়ী জেলা শহরে চলে প্রায় হাজারখানেক ব্যাটারিচালিত অটোবাইক। তার মধ্যে নিশ্চিতভাবে নজর কাড়বে একটি অটোবাইক ও তার চালক।

এই অটোচালকের পায়ে দামি জুতো, পরনে ম্যাচিং কালারের টি-শার্ট, জ্যাকেট ও প্যান্ট। সে দেখতেও বেশ সুদর্শন, আর তার অটোবাইকটিও দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো। ছোট-বড় ৩২টি খেলনা পাখি, ৪টি ফুলদানি, ১০০টি মিউজিক লাইট এবং প্লেনসিটের উপর আর্ট করা বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও পাখিতে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পুরো বাইকটি। আর তা দিয়েই আলাদা করে চেনা যায় কুদ্দুসের অটোবাইকটি।

হ্যাঁ, বৈচিত্রময় এ অটো গাড়িটির ‘স্মার্ট’ চালকের নাম আব্দুল কুদ্দুস। বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের তেকাটি গ্রামে। দীর্ঘ আট বছর কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। টাকা-পয়সাও মোটামুটি ভালোই জমিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও দেশে এসে চালাচ্ছেন অটোবাইক। এটি শুধু পেটের দায়ে করছেন না তিনি বরং কোনো কাজই যে ছোট নয়, তা প্রমাণ করতেই অটো চালাচ্ছেন, এমনটাই জানালেন কুদ্দুস।

আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২০০১ সালে তিনি বালিয়াকান্দি নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর পড়ালেখায় আর আগাতে না পারায় ২০০৩ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। দীর্ঘ আট বছর সৌদি আরবে চাকরি করে বেশ কয়েক লাখ টাকা জমিয়ে ২০১১ সালে বাড়ি ফেরেন তিনি। এ টাকার মধ্য থেকে কিছু টাকা দিয়ে গড়ে তোলেন নজরকাড়া একতলা একটি বাড়ি। এরপর ২০১৪ সালে সাত লাখ টাকা ব্যয় করে আবার ওমানে যান কুদ্দুস। তবে নানা জটিলতার কারণে সাত লাখ টাকা লোকসান করে পাঁচ মাস পরে বাড়ি ফিরে আসতে হয় তাকে।

বাড়ি ফেরার পর পরিবার ও বন্ধুরা যখন তাকে ব্যবসা-বাণিজ্য করার উৎসাহ দিচ্ছিলেন তখন এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে এই অটো-গাড়িটি কেনেন কুদ্দুস। এরপর আরও প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় করে অটো গাড়িটির শোভাবর্ধন করেন। এই শোভাবর্ধনের ফলে তার অটো-গাড়িটি বৈচিত্রময় একটি গাড়িতে রূপান্তরিত হয়। সেই সাথে তার স্মার্ট পোশাক-আশাক তাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন মাত্রায়। তাই যেখানেই কুদ্দুসের এই অটো গাড়িটিকে মানুষ দেখতে পায়, সেখানেই সবাই ভিড় জমায়। কুদ্দুসকে এখন সবাই চেনেন ‘স্মার্ট অটোওয়ালা’ হিসেবে।

কুদ্দুস বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই খুব সৌখিন এবং সুন্দরের পূজারি। পরিছন্নতা, স্মার্ট পোশাক-আশাক এবং সাজগোজ আমার অনেক পছন্দ। তাই আমি আমার অটোবাইকটিকে বৈচিত্রময় সাজে সাজিয়েছি। আর এ অটোবাইক চালিয়ে সবার মাঝে একটি বিষয় জাগ্রত করার চেষ্টা করছি যে, স্মার্ট সাজেও যে কোনো ধরনের কাজ করা যায়। ছোট কাজকে অবহেলা না করে আমার দেখাদেখি যদি সবাই কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়, তাহলে দেশের বেকারত্বের হার কমে যাবে। ফলে যদি দেশ এগিয়ে যায়, তাহলেই আমার স্বার্থকতা।’

রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম/ শিহাব/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর