রাজবাড়ীতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট, বিপাকে রোগীরা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ ,১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ | আপডেট: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ ,১২ ডিসেম্বর, ২০১৬
পিকচার

ফকীর আশিকুর রহমান, নিউজরুম এডিটররাজবাড়ী জেলায় আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। প্রায়ই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু স্থানীয় সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন হাসপাতালে না পেয়ে চড়া দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র রোগীরা।

জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই গড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন অন্তত ২০-২৫ জন মানুষ। শিকার হচ্ছে গৃহপালিত পশুও।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন ধীর গতিতে চললেও ইউনিয়ন পর্যায়ে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে গ্রামের মানুষেরাই বেশি কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকে আক্রান্ত হয় জলাতঙ্ক রোগে।

কয়েকদিন আগে কুকুরের কামড়ের শিকার হন দরিদ্র কৃষক রাজ্জাক শেখ। তিনি বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে যাই। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয়-গত ৩ মাস ধরে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনেছি।

‘শুধু আমিই না, আমার মতো আরো অনেক রোগীকেই এভাবে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে আমাদের জন্যে সুবিধার হয়,’ বলেন রাজ্জাক শেখ।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার প্রবীর কুমার সেন জানান, সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখে ৭০টি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আনা হয়। যা এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো ভ্যাকসিন সদর হাসপাতালে আসেনি। ভ্যাকসিন না থাকায় এই ৩ মাসে কতজন মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন তারও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাসপাতালে নেই।

সোমবার সকালে সদর হাসপাতালে কুকুরের ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, শুধু ডিসেম্বর  ১১ তারিখ পর্যন্ত কুকুরে কামড়ানো রোগীদের মধ্যে ৪৮৬টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তবে তার সবগুলোই বাইরে থেকে কিনে এনেছেন রোগীরা।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রহিম বক্স জানান, ‘ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ্ থেকে এ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সেখানে বারবার চিঠি দিলেও আমরা এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাচ্ছি না।’


এই নিউজটি 1755 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments