,

জিনের বাদশা বন্দি র‍্যাবের হাতে

News

1277646164-58‘বাবারে আমি জিনের বাদশা বলছি। তুই বড়ই ভাগ্যবান। সাত ডেকচি (পাত্র) টাকা পাবি। সাথে পাবি একটা স্বর্ণের পুতুল। অল্প সময়ে হয়ে যাবি কোটিপতি। এই সম্পদ তোর নামে লেখা হয়েছে। তুই ছাড়া অন্য কেউ এগুলো ভোগ করতে পারবে না। কারো সঙ্গে আলাপ করলে তোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। মাজারে সিন্নি খাওয়াতে হবে, পশু  কোরবানি দিতে হবে। এ জন্য  চার লাখ টাকা বিকাশ করে দে। নইলে তোর উপর আল্লাহর গজব নাজিল হয়ে যাবে। চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবি তুই। রানা প্লাজার মতো তোর দালান কোঠা ধসে চুরমার হয়ে যাবে। গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে তোর সন্তানরা মারা যাবে।’ অপরিচিত নাম্বার থেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে এভাবেই মধ্যরাতে ফোন আসে কল্পনা আক্তার সুইটির মোবাইল ফোনে। তিনি লোভে পড়ে আর ভয়ে চার লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন কথিত জিনের বাদশার কাছে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। শুক্রবার রাতে র‍্যাব রাজধানীর নিউমার্কেট ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত জিনের বাদশা আবু মিয়া (২২) ও তার সহযোগী মিলন মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি কথিত স্বর্ণের মূর্তি, চার লাখ টাকা লেনদেনের বিকাশের রসিদ ও দুটি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করে।
র‍্যাব-২-এর অপারেশন অফিসার রায়হান উদ্দিন খান জানান, একটি চক্র গভীর রাতে লোকজনের মোবাইল ফোনে কল করে নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ভুয়া দোয়া কালাম পড়ে বিভিন্ন কায়দায় বিপুল সম্পদের মালিক বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বর অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, কল্পনা আক্তার সুইটি নামের এক নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জিনের বাদশা আবু মিয়া। পরে আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করলে বিষয়টি তিনি র‍্যাবকে অবহিত করেন। র‍্যাবের অপর একটি দল নিউ মার্কেট এলাকা থেকে কথিত ওই জিনের বাদশার ভাই আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এই সময় তার কাছ থেকে দুটি ভুয়া স্বর্ণের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিনের বাদশা চক্রের মূলহোতা আজমলসহ এই গ্রুপের আরো সাতজনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব।
র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের মূলহোতা আজমল আগে পুতুল ব্যবসা করত। পিতলের পুতুল স্বর্ণের বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। দুই বছর ধরে এই চক্রটি জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে শতাধিক মানুষকে প্রতারিত করেছে। আজমলের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন শহিদুল মিয়া, মিলন  মিয়া, সাবু মিয়া, শাহিন মিয়া, ফরিদুল মিয়া, আমিরুল ইসলাম, ও ঠাণ্ডা মিয়া। তাদের প্রত্যেকের কাছে ৫০টির বেশি সিম রয়েছে। এই সিম দিয়ে তারা দিনের বেলায় অজ্ঞাত নম্বরে ফোন করে জেনে নিত স্থান ও নাম। পরে গভীর রাতে ফোন করে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামের বাসিন্দা এই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাদের আয়ের অন্যতম উত্স এই প্রতারণা। 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর