,

আবার মাঠে নামার প্রস্তুতি জামায়াতের

News

image_325_69018

ঢাকা : দলের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আপিলের রায় সামনে রেখে আবার মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। আপিল বিভাগের রায় নেতিবাচক হবে ধরে নিয়েই বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে কর্মীদের প্রস্তুত হতে বলেছে দলটি। 
এরই মধ্যে কাল সোমবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের দায়িত্বশীল দুজন নেতা জানান, সাঈদীর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগ-সংক্রান্ত নথি তলবের জন্য তাঁর আইনজীবীর করা আবেদন ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করার পর জামায়াতের কেন্দ্র থেকে জেলা ও থানার দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। তাতে উচ্চ আদালতের রায় সাঈদীর বিরুদ্ধে যেতে পারে—এমন ধারণা দিয়ে নেতা-কর্মীদের দ্রুত মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। আপিলের রায়ের পর দলের দেওয়া কর্মসূচিতে যাতে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই বার্তায়।
জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রধান আলেম। তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হলে যে প্রতিক্রিয়া হবে, তা হজম করা যেকোনো সরকারের পক্ষেই কঠিন হবে।
কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, জানতে চাইলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা তো আগেভাগে বলা মুশকিল।’
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তখন দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক তাণ্ডব ও সহিংসতা চালান জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। তাতে প্রথম তিন দিনে ৭৭ জন নিহত এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। কারণ, দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তিনি খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়া গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সাঈদীর জনপ্রিয়তা আছে বলে মনে করে জামায়াত। তাই সাঈদীকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি দিয়ে তাতে কিছু সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করা যাবে বলে দলটি আশা করে। এ জন্য আগাম প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছে দলটি। 
এরই মধ্যে সাঈদীসহ দলের নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে আগামীকাল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন। 
একই দিন জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল রাজধানীতে দলের মহানগর কমিটির দায়িত্বশীলদের এক সভা হয়েছে। এতে মতিউর রহমান নিজামী ও সাঈদীর ‘বিচারিক হত্যার’ সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম।
দলের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার পর ১৯৭২ সালে তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা মামলার নথিপত্র তলবের আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করায় হতাশ হয়ে পড়েছে জামায়াত। এর আগে বিসাবালীর ভাই সুখরঞ্জন বালীর সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদনও অগ্রাহ্য হয়। সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটিতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। এর মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালী হত্যায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সাঈদী এই দণ্ডাদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষ বাকি ছয় অভিযোগে সাঈদীর সাজা চেয়ে আপিল করে।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১৬ এপ্রিল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে রায় অপেক্ষমাণ রাখেন। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

আপডেট: ০৪:০০, এপ্রিল ২০, ২০১৪  মানিক হোসাইন

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর